আফগানিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত সামরিক সরঞ্জামে সজ্জিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াকুব মুজাহিদ। ১৯ আগস্ট ২০২৬ কাবুলে জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে আফগানিস্তানের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের ১০৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, আফগান সশস্ত্র বাহিনীকে আরও সক্ষম ও আধুনিক করে গড়ে তুলতে সরকার আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ ও ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং আফগানিস্তানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। অর্থাৎ সামরিক আধুনিকায়নকে শুধু অস্ত্র সংগ্রহের বিষয় হিসেবে নয়, বরং দেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা কাঠামো শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে মাওলানা ইয়াকুব আফগান জনগণকে বিদেশি ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, কিছু পক্ষ আফগানিস্তানকে অন্য দেশগুলোর জন্য হুমকি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। তবে তিনি বলেন, আফগানিস্তানে একটি দায়িত্বশীল সরকার রয়েছে, যারা দেশের ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আফগান ভূখণ্ড থেকে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হুমকি সৃষ্টি না হয়, সেটিও নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিতে স্বাধীন সিদ্ধান্তের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। মাওলানা ইয়াকুব বলেন, আফগানরা কারও কাছে মাথা নত করবে—এমন প্রত্যাশা করা উচিত নয়। বিদেশি কোনো রাষ্ট্র নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী আফগানিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা সামরিক নীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে, সেটিও গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের নীতি, অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতা দেশের জনগণের স্বার্থ এবং নিজস্ব সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত।
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আফগানিস্তান কোনো রাষ্ট্রের ওপর হামলা চালাতে চায় না এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করাও তাদের নীতির অংশ নয়। তবে দেশের ভূখণ্ড, নীতি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার আফগানিস্তানের রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সেই অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলাকেও তিনি স্বাভাবিক রাষ্ট্রীয় অধিকার হিসেবে তুলে ধরেন।
মাওলানা ইয়াকুবের বক্তব্যে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। প্রথমত, আফগানিস্তানের বর্তমান কর্তৃপক্ষ সামরিক বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত সরঞ্জামের মাধ্যমে আরও সক্ষম করতে আগ্রহী। দ্বিতীয়ত, এই সামরিক আধুনিকায়নের সঙ্গে বিদেশি চাপ ও হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যানের রাজনৈতিক অবস্থানও যুক্ত করা হচ্ছে।
তবে আধুনিক প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের বাস্তব অগ্রগতি, এর পরিমাণ এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়ানো হবে—সে বিষয়ে বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে আপাতত এটি আফগান প্রতিরক্ষা নীতির একটি ঘোষিত দিকনির্দেশনা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এর বাস্তবায়ন আফগানিস্তানের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
