জাতীয়Jul 3, 20264 min read

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় শিল্পপার্ক করছে বিডা, যেখানে আসবে ৩০টিরও বেশি চীনা কোম্পানি

স্টাফ রিপোর্টাররিপোর্টার|জাতীয়

চট্টগ্রামের আনোয়ারার শিল্পপার্কে ৩০টিরও বেশি চীনা কোম্পানি প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে, যা শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শেয়ার করুন:

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনকে ঘিরে বৃহৎ শিল্পপার্ক গড়ে তুলছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এই শিল্পপার্কে ৩০টিরও বেশি চীনা প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উৎপাদনশিল্প, ইলেকট্রনিক্স, বস্ত্রশিল্প, মোটরযান যন্ত্রাংশ, সরবরাহ ব্যবস্থা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং হালকা প্রকৌশলসহ বিভিন্ন খাতে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সাম্প্রতিক বাংলাদেশ-চীন বিনিয়োগ সম্মেলনের পর এই বিনিয়োগ আগ্রহ আরও জোরালো হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চীনে তাদের প্রথম বিদেশি বিনিয়োগ অফিস চালুর ঘোষণা দিয়েছে, যাতে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা দ্রুত প্রয়োজনীয় সেবা ও সহায়তা পান।

প্রায় ৭৮৪–৮০০ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই শিল্পাঞ্চল সরকার-টু-সরকার কাঠামোর আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এখানে আধুনিক সড়ক, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ, নৌঘাট, বর্জ্য শোধনাগার এবং অন্যান্য শিল্প অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তিত বাস্তবতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে চীনা উৎপাদনশিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। তার মতে, এই শিল্পপার্ক চালু হলে রপ্তানি বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিল্পখাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুল্ক ও বাণিজ্যগত চাপ বৃদ্ধির কারণে অনেক চীনা প্রতিষ্ঠান নতুন উৎপাদন কেন্দ্র খুঁজছে। ভৌগোলিক অবস্থান, দক্ষ শ্রমশক্তি এবং সমুদ্রবন্দর সুবিধার কারণে বাংলাদেশ তাদের কাছে ক্রমেই একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে উঠে আসছে। আনোয়ারার এই শিল্পপার্ক সম্পূর্ণভাবে চালু হলে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে এটি দেশের শিল্পায়ন, রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে একটি নতুন যুগের সূচনা হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী ভিত্তি পাবে।

সম্পর্কিত খবর

হাইতিতে জাতিসংঘ-সমর্থিত গ্যাং দমন বাহিনীতে ১,৫০০ সদস্য পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাং দমনে জাতিসংঘ-সমর্থিত বাহিনীতে প্রায় ১,৫০০ বাংলাদেশি সদস্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ, যা বড় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মোতায়েন।

কলকাতায় অগ্নিকান্ডের পর আতঙ্কে তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা ।

কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশিসহ ৯ জন নিহতের পর নিরাপত্তা উদ্বেগে বাংলাদেশি পর্যটকদের অনেকে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন।

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ইরানের আইআরজিসির দাবি

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আগের সংঘাতের তুলনায় আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বন্দ্বে দক্ষিণ কোরিয়াকেনিরপেক্ষ থাকার আহ্বান চীনের

যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দক্ষিণ কোরিয়াকে ভারসাম্যপূর্ণ থাকার আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে দুই কোরিয়ার সংলাপ পুনরায় শুরুর আহ্বানও জানানো হয়েছে।