চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনকে ঘিরে বৃহৎ শিল্পপার্ক গড়ে তুলছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এই শিল্পপার্কে ৩০টিরও বেশি চীনা প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উৎপাদনশিল্প, ইলেকট্রনিক্স, বস্ত্রশিল্প, মোটরযান যন্ত্রাংশ, সরবরাহ ব্যবস্থা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং হালকা প্রকৌশলসহ বিভিন্ন খাতে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সাম্প্রতিক বাংলাদেশ-চীন বিনিয়োগ সম্মেলনের পর এই বিনিয়োগ আগ্রহ আরও জোরালো হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চীনে তাদের প্রথম বিদেশি বিনিয়োগ অফিস চালুর ঘোষণা দিয়েছে, যাতে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা দ্রুত প্রয়োজনীয় সেবা ও সহায়তা পান।
প্রায় ৭৮৪–৮০০ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই শিল্পাঞ্চল সরকার-টু-সরকার কাঠামোর আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এখানে আধুনিক সড়ক, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ, নৌঘাট, বর্জ্য শোধনাগার এবং অন্যান্য শিল্প অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তিত বাস্তবতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে চীনা উৎপাদনশিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। তার মতে, এই শিল্পপার্ক চালু হলে রপ্তানি বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিল্পখাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুল্ক ও বাণিজ্যগত চাপ বৃদ্ধির কারণে অনেক চীনা প্রতিষ্ঠান নতুন উৎপাদন কেন্দ্র খুঁজছে। ভৌগোলিক অবস্থান, দক্ষ শ্রমশক্তি এবং সমুদ্রবন্দর সুবিধার কারণে বাংলাদেশ তাদের কাছে ক্রমেই একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে উঠে আসছে। আনোয়ারার এই শিল্পপার্ক সম্পূর্ণভাবে চালু হলে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে এটি দেশের শিল্পায়ন, রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে একটি নতুন যুগের সূচনা হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী ভিত্তি পাবে।