ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের আগামী ৬ মাসের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ২৬ আগস্ট শিলিগুড়িতে ভারতের নতুন ৩টি ফৌজদারি আইনের ওপর আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে বহিষ্কারের বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
অমিত শাহ জানান, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় নাগরিকত্বের আবেদন যাচাই ও চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে পশ্চিমবঙ্গের ৮টি জেলার জেলা প্রশাসকদের ক্ষমতা দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে যেসব হিন্দু ভারতে আসতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের মর্যাদার সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যে তা সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে প্রবেশ করা নির্দিষ্ট শ্রেণির হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিষ্টান অভিবাসীদের নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ফলে অমিত শাহের নতুন ঘোষণা মূলত এই আইনের আওতায় থাকা আবেদনগুলোর প্রক্রিয়া দ্রুত করার দিকেই ইঙ্গিত করছে।
অন্যদিকে, অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রশ্নে অমিত শাহ সরকারের কঠোর নীতির কথা তুলে ধরেছেন। তিনি ‘শনাক্ত, তালিকা থেকে বাদ ও বহিষ্কার’ নীতির কথা উল্লেখ করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘ স্থলসীমান্তের কারণে পশ্চিমবঙ্গে সীমান্ত পারাপার, অভিবাসন ও অনুপ্রবেশ দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যু।
বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও সমালোচনা করেন অমিত শাহ। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বাস্তবায়নের বিরোধিতা করেছিলেন। তবে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় থাকায় আইনটি বাস্তবায়নের পথ সহজ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অমিত শাহের বক্তব্যে একই সঙ্গে ৩টি বিষয় স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে—নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় যোগ্য ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব প্রদান, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ এবং তাঁদের বহিষ্কার। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে।
একই সঙ্গে বিষয়টির প্রভাব শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া মানুষের নাগরিকত্ব প্রদান এবং সীমান্তে অনুপ্রবেশবিরোধী পদক্ষেপ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পরিস্থিতি ও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে নাগরিকত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগ্যতা, আবেদন যাচাই এবং আইনি শর্ত পূরণের বিষয়টি কার্যকর প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে আগামী ৬ মাসে ঘোষিত উদ্যোগ বাস্তবে কতটা দ্রুত ও ব্যাপকভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটিই এখন মূল বিষয়।
