আন্তর্জাতিকAug 22, 20264 min read

হিন্দু উগ্রবাদী আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে। মোহন ভাগবতের সম্ভাব্য সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

শেয়ার করুন:
হিন্দু উগ্রবাদী আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন আরএসএস নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও কূটনৈতিক সৌজন্য বিনিময় থেকে মার্কিন প্রশাসনকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে জড়িত আরএসএস সদস্যদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিবেচনার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

এই আহ্বান এসেছে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফরকে সামনে রেখে। আগামী ২৯ আগস্ট নিউইয়র্কে আয়োজিত ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশনস’ অনুষ্ঠানে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এ সফর ঘিরেই যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাটির পক্ষ থেকে নতুন করে আরএসএসের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

ইউএসসিআইআরএফ কমিশনার জিন মিলসের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত সরকারের সঙ্গে আরএসএসের সম্পর্ক থাকলেও সংগঠনটির নেতাদের মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বা বিশেষ কূটনৈতিক সৌজন্য দেখানো উচিত নয়। তাঁর মতে, ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদও আরএসএস ও এর বিভিন্ন সহযোগী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মুসলিম ও খ্রিস্টানসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে—এমন তথ্য এই প্রতিবেদনে নেই।

এর আগে চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত ইউএসসিআইআরএফের বার্ষিক প্রতিবেদনেও ভারতকে ধর্মীয় স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করার সুপারিশ করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে আরএসএস, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দ ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়।

তবে ইউএসসিআইআরএফের মূল্যায়ন ভারত সরকার বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। নয়াদিল্লির অভিযোগ, সংস্থাটির প্রতিবেদন পক্ষপাতদুষ্ট এবং ভারতের ধর্মীয় পরিস্থিতিকে বিকৃত ও বাছাই করা উপায়ে উপস্থাপন করে।

ফলে মোহন ভাগবতের সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে নতুন করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা মূলত ধর্মীয় স্বাধীনতা, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের সংবেদনশীল ভারসাম্যের সঙ্গে যুক্ত। একদিকে ইউএসসিআইআরএফ আরএসএসের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছে, অন্যদিকে ভারত সরকার সংস্থাটির মূল্যায়নকে প্রত্যাখ্যান করছে। ফলে বিষয়টি সামনে রেখে ওয়াশিংটনের পরবর্তী অবস্থানই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সম্পর্কিত খবর

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তুরস্কের আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

গাজামুখী ত্রাণবহরে ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দিবে ভারত: অমিত শাহ।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ৬ মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

ইসরায়েলের ‘ই-১’ বসতি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ৮ মুসলিম দেশের কঠোর অবস্থান

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ই-১ বসতি পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে ৮ মুসলিম দেশ। তারা ১,২০০ আবাসন ইউনিটের উদ্যোগ বাতিল ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।