তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক শুক্রবার (২১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন, গাজা উপত্যকার উদ্দেশে যাওয়া একটি ত্রাণবহরে ইসরায়েলি বাহিনীর বাধা দেওয়ার অভিযোগের তদন্তের আওতায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তুরস্কের দাবি, গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়া ওই ত্রাণবহরে ইসরায়েলি বাহিনীর হস্তক্ষেপের ঘটনাটি তদন্ত করে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’র অভিযোগ এনে নেতানিয়াহু ও দেশটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আঙ্কারা। তবে ইসরায়েল শুরু থেকেই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরু হলে তুরস্ক ও ইসরায়েলের সম্পর্ক দ্রুত অবনতির দিকে যায়। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও সরাসরি বিমান যোগাযোগও বন্ধ রয়েছে। একই সময়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান হামাসের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও দেশটির নীতির কঠোর সমালোচনা করে আসছেন। ফলে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নতুন এই আইনি পদক্ষেপকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিরোধের ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
গাজামুখী ত্রাণবহরকে কেন্দ্র করে তুরস্ক ও ইসরায়েলের বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। ২০১০ সালে গাজায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়া একটি বহরে ইসরায়েলি নৌ-কমান্ডোদের অভিযানে ১০ তুর্কি নাগরিক নিহত হন। ওই ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দুই দেশের অবস্থান আবারও ব্যাপকভাবে দূরে সরে যায়।
নতুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ঘোষণার ফলে তুরস্ক-ইসরায়েল সম্পর্কে আইনি ও কূটনৈতিক বিরোধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যুক্ত হলো। তুরস্ক একদিকে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছে, অন্যদিকে ইসরায়েল তুরস্কের অভিযোগ ও পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ফলে এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়াতে পারে।
তবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির অর্থ নেতানিয়াহু অবিলম্বে গ্রেপ্তার হবেন—এমন নয়। এর বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইনি অবস্থান, সহযোগিতা এবং পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। এ কারণে বিষয়টি শুধু তুরস্ক ও ইসরায়েলের দ্বিপক্ষীয় বিরোধ নয়; গাজায় মানবিক সহায়তা, যুদ্ধকালীন কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে। বর্তমানে তুরস্কের পদক্ষেপ এবং ইসরায়েলের প্রত্যাখ্যান—দুই দেশের সম্পর্কের গভীর রাজনৈতিক বিভাজনকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
