আন্তর্জাতিকAug 22, 20264 min read

ইসরায়েলের ‘ই-১’ বসতি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ৮ মুসলিম দেশের কঠোর অবস্থান

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ই-১ বসতি পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে ৮ মুসলিম দেশ। তারা ১,২০০ আবাসন ইউনিটের উদ্যোগ বাতিল ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।

শেয়ার করুন:
ইসরায়েলের ‘ই-১’ বসতি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ৮ মুসলিম দেশের কঠোর অবস্থান

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের কাছে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বিতর্কিত ‘ই-১’ বসতি পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা জানিয়েছে ৮টি মুসলিম দেশ। মিশর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এক যৌথ বিবৃতিতে পরিকল্পনাটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত ইসরায়েলি কার্যক্রম প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন।

ই-১ পরিকল্পনার আওতায় পশ্চিম তীরে প্রায় ১,২০০টি নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মুসলিম দেশগুলোর মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ আরও গভীর হবে এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভৌগোলিক সংযোগ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে ই-১ এলাকার বসতি সম্প্রসারণ পশ্চিম তীরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগ কঠিন করে তুলতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা বাড়লে ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন ও পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ৮টি দেশ তাই ই-১ পরিকল্পনাকে শুধু একটি আবাসন নির্মাণ প্রকল্প হিসেবে দেখছে না; বরং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ কাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করছে।

দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ, নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগকে সমর্থনের কথাও জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়ায় ইসরায়েল বারবার বসতি সম্প্রসারণের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

এই অবস্থানের পেছনে আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা। ৮টি মুসলিম দেশের মতে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে শুধু স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা বাড়বে না, বরং দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক সমাধানের পথও আরও সংকুচিত হতে পারে। বিশেষ করে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন অঞ্চল যদি ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তাহলে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামো নিয়ে সমঝোতা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

যৌথ বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দেশগুলোর দাবি, আন্তর্জাতিক আইন ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক সিদ্ধান্তের প্রতি কার্যকর সম্মান নিশ্চিত করতে না পারলে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করা কঠিন হবে। ফলে তারা ই-১ পরিকল্পনা বাতিলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও দৃঢ় পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে, ৮টি মুসলিম দেশের এই যৌথ অবস্থান ই-১ পরিকল্পনাকে ঘিরে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মাত্রা স্পষ্ট করেছে। তাদের বক্তব্যে মূলত ৩টি বিষয় সামনে এসেছে—বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করা, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভৌগোলিক সংযোগ রক্ষা করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে এর প্রভাব শুধু পশ্চিম তীরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রচেষ্টার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে দেশগুলো সতর্ক করেছে।

সম্পর্কিত খবর

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তুরস্কের আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

গাজামুখী ত্রাণবহরে ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দিবে ভারত: অমিত শাহ।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ৬ মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

হিন্দু উগ্রবাদী আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে। মোহন ভাগবতের সম্ভাব্য সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।