ঢাকায় অবস্থিত চীনের দূতাবাস বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ ভিসা সুবিধা ঘোষণা করেছে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত চীনের গুয়াংঝু শহরে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনী ১৪০তম চায়না ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট ফেয়ার উপলক্ষে এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের জন্য ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ১৪০তম ক্যান্টন ফেয়ারের সরকারি আমন্ত্রণপত্রই হবে একমাত্র বাধ্যতামূলক নথি। এর ফলে আগের তুলনায় ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে আবেদনকারীদের অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণের সময় পূর্বে প্রাপ্ত চীনা ভিসার তথ্য, ভ্রমণ ইতিহাস এবং প্রতিষ্ঠানের গ্যারান্টিপত্রের মতো সহায়ক নথি সংযুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ এসব তথ্য আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুত করতে সহায়তা করবে। দূতাবাস আরও জানিয়েছে, আবেদনপত্রে ভুল, অসম্পূর্ণ অথবা বিভ্রান্তিকর তথ্য থাকলে আবেদন ফেরত দেওয়া হতে পারে। তাই প্রতিটি তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব, অতিরিক্ত ব্যয় বা ভ্রমণ পরিকল্পনায় কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি না হয়। একই সঙ্গে জাল বা পরিবর্তিত আমন্ত্রণপত্র, মিথ্যা তথ্য কিংবা ভুয়া কাগজপত্র জমা দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
দূতাবাসের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে শুধু বর্তমান আবেদনই প্রত্যাখ্যাত হবে না, ভবিষ্যতেও চীনের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া আবেদনকারীদের নিজ নিজ আবেদন নিজেরাই সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়ে জানানো হয়েছে, ভিসা অনুমোদনের জন্য কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিশেষ ক্ষমতা বা অনুমোদন নেই। তাই ‘ভিসার নিশ্চয়তা’, ‘ভিসা না হলে কোনো ফি নয়’, ‘বিশেষ ব্যবস্থা’ বা ‘অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ’-এর মতো প্রলোভনমূলক প্রচারণা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। দূতাবাস স্পষ্ট করেছে, ভিসার ধরন, মেয়াদ, অবস্থানের সময়সীমা এবং প্রবেশের সংখ্যা চীনের প্রচলিত আইন ও আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি দূতাবাস পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তারা স্বচ্ছ, আইনসম্মত ও দক্ষ ভিসাসেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কোনো স্থানীয় কর্মী ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা দিতে পারবেন না।
এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য প্রদর্শনী হিসেবে পরিচিত এই মেলায় প্রতি বছর বিভিন্ন দেশের হাজারো ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক অংশ নেন। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্যও এটি নতুন বাজার, আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক অংশীদার এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। নতুন ঘোষিত এই বিশেষ ভিসা সুবিধা বাংলাদেশি অংশগ্রহণকারীদের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যুক্ত হওয়ার পথ আরও সহজ করবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।
