কয়েক সপ্তাহ আগে দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে চলা আন্দোলনের সময় মোহাম্মদ জুনায়েদ সাধারণ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে আন্দোলনকারীদের মধ্যে পানি ও খাবার বিতরণে অংশ নেন। বিভিন্ন তহবিল থেকে আসা মানবিক সহায়তা মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়াই ছিল তার দায়িত্ব। একই কর্মসূচিতে শিখসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আরও অনেক স্বেচ্ছাসেবক একই ধরনের কাজ করলেও বর্তমানে অভিযোগ উঠেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর মূলত জুনায়েদকেই ঘিরে। অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তর প্রদেশ পুলিশ গাজিয়াবাদে তার বাবা ও নিকটাত্মীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গিয়ে জুনায়েদকে পুলিশের কাছে হাজির করার চাপ দিচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে তার পরিবার উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। আন্দোলনের পর সরকারের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নেওয়া হয় এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই ঘোষণার পরও জুনায়েদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, আইনের প্রয়োগে সমতা বজায় না রেখে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বেছে বেছে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই ধরনের অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক ঘটনাকেও ঘিরে উঠেছে।
২৪ জুলাই কলকাতায় শিক্ষা দুর্নীতির প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর পুলিশ ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে, যার মধ্যে ১৩ জন একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দৃশ্যে অন্যান্য সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদেরও ঘটনাস্থলে দেখা গেলেও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। মানবাধিকারকর্মীদের দাবি, তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থাকা প্রমাণের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত।
তাদের মতে, যদি আইন প্রয়োগে বৈষম্যের ধারণা তৈরি হয়, তবে তা শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নয়, বৃহত্তর সমাজের মধ্যেও অনাস্থা ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এখানে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত ব্যাখ্যা এখনো সর্বসম্মতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে ঘটনাগুলোর চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত, স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া এবং প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হওয়াই ন্যায়বিচারের মূল ভিত্তি, আর সেই নীতির প্রতি জনআস্থা বজায় রাখাই রাষ্ট্র ও বিচারব্যবস্থার অন্যতম বড় দায়িত্ব।
