বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের ৬ কর্মকর্তার পাকিস্তান সফরকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ১৫ আগস্ট কর্নেল মাগফুজ-উল-বারীর নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছায় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দলে একজন কর্নেল, একজন উইং কমান্ডার ও একজন স্কোয়াড্রন লিডারসহ মোট ৬ কর্মকর্তা ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তারা থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২২ উড়োজাহাজে ব্যাংকক হয়ে পাকিস্তানে যান। তবে সফরের আনুষ্ঠানিক উদ্দেশ্য, পাকিস্তানে কার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে কিংবা কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে—এসব বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
সফরটির রাজনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব বেড়েছে এর সময়ের কারণে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে ইসলামাবাদে ডিজিএফআই কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এবং ভারতীয় আমন্ত্রণের বিষয়টি আলোচনায় থাকায় সফরটি বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে শুধু সময়কাল বিবেচনা করে সফরটিকে ভারতবিরোধী কোনো পদক্ষেপ বা নির্দিষ্ট সামরিক সমঝোতার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো প্রকাশ্য প্রমাণ নেই।
চলতি বছর ডিজিএফআইয়ের শীর্ষ পর্যায়ে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক নজিরও রয়েছে। মার্চে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরী দিল্লি সফর করে ভারতীয় গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে ১ এপ্রিল তাঁর ইসলামাবাদ সফরের খবরও প্রকাশ্যে আসে। অর্থাৎ, একই বছরে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা পর্যায়ে যোগাযোগের ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে ১৫ আগস্টের সফরকে বাংলাদেশের বহুমুখী নিরাপত্তা কূটনীতির অংশ হিসেবে দেখার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ একই সঙ্গে ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা যোগাযোগ বজায় রাখছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়লেও এর অর্থ কোনো নির্দিষ্ট জোট বা সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো নেই।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা কৌশলে এই ভারসাম্য আরও স্পষ্ট হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে। ৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের কমান্ডারের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
সামগ্রিকভাবে, ১৫ আগস্টের ৬ কর্মকর্তার ইসলামাবাদ সফর বাংলাদেশের সামরিক-গোয়েন্দা যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলেও এর প্রকৃত উদ্দেশ্য ও ফলাফল এখনো স্পষ্ট নয়। তাই প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে সবচেয়ে সতর্ক মূল্যায়ন হলো—ঢাকা ও ইসলামাবাদের নিরাপত্তা যোগাযোগ সক্রিয় রয়েছে, তবে সফরটির নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য জানতে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা নির্ভরযোগ্য অতিরিক্ত তথ্যের অপেক্ষা প্রয়োজন।
