আন্তর্জাতিকJun 24, 20264 min read

ইউরোপে তালেবানের বড় কূটনৈতিক সাফল্যের দাবি ।

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

ব্রাসেলসে ইইউ ও আফগান প্রশাসনের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে প্রত্যাবাসন ও যোগাযোগ বাড়ানোর আলোচনা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

শেয়ার করুন:
ইউরোপে তালেবানের বড় কূটনৈতিক সাফল্যের দাবি ।

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আফগানিস্তানের বর্তমান ইমারত ইসলামিয়া প্রশাসনের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। ২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর ইউরোপে এটি তালেবান প্রশাসনের প্রথম আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য বেলজিয়াম সরকার আফগান প্রতিনিধিদলকে বিশেষভাবে ১ দিনের ভিসা প্রদান করে। এই বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া আফগান নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি। গত কয়েক বছরে বিপুল সংখ্যক আফগান নাগরিক ইউরোপে আশ্রয়ের আবেদন করলেও উল্লেখযোগ্য অংশের আবেদন অনুমোদন পায়নি, ফলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য একটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

বৈঠকে আফগান প্রতিনিধিরা ইউরোপে অবস্থানরত আফগান নাগরিকদের জন্য দূতাবাস ও নাগরিক সেবা পুনরায় সক্রিয় করা, ভ্রমণসংক্রান্ত জটিলতা কমানো এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে আরও বিস্তৃত যোগাযোগ বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ শক্তিশালী না হলে সাধারণ আফগান জনগণের বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান কঠিন হয়ে উঠবে। অন্যদিকে ইউরোপীয় পক্ষও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, আফগানিস্তানের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় কিছু বিষয়ে সরাসরি যোগাযোগ প্রয়োজন হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠককে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে না দেখে বাস্তবভিত্তিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আফগানিস্তানের রাজনৈতিক বাস্তবতা, অভিবাসন সংকট এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে ইউরোপ এখন আরও ব্যবহারিক অবস্থান গ্রহণের দিকে এগোচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট মহল এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং নারী শিক্ষা, নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। একই সময়ে কিছু কূটনৈতিক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, সীমিত সংলাপ ভবিষ্যতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।

এই বৈঠকের তাৎক্ষণিক ফলাফল এখনো স্পষ্ট নয়, তবে এটি আফগানিস্তান ইস্যুতে ইউরোপীয় দৃষ্টিভঙ্গির সম্ভাব্য পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে দুই পক্ষের যোগাযোগ কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, মানবিক পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক বাস্তবায়নযোগ্য সহযোগিতার ওপর।

সম্পর্কিত খবর

হাইতিতে জাতিসংঘ-সমর্থিত গ্যাং দমন বাহিনীতে ১,৫০০ সদস্য পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাং দমনে জাতিসংঘ-সমর্থিত বাহিনীতে প্রায় ১,৫০০ বাংলাদেশি সদস্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ, যা বড় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মোতায়েন।

কলকাতায় অগ্নিকান্ডের পর আতঙ্কে তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা ।

কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশিসহ ৯ জন নিহতের পর নিরাপত্তা উদ্বেগে বাংলাদেশি পর্যটকদের অনেকে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন।

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ইরানের আইআরজিসির দাবি

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আগের সংঘাতের তুলনায় আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বন্দ্বে দক্ষিণ কোরিয়াকেনিরপেক্ষ থাকার আহ্বান চীনের

যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দক্ষিণ কোরিয়াকে ভারসাম্যপূর্ণ থাকার আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে দুই কোরিয়ার সংলাপ পুনরায় শুরুর আহ্বানও জানানো হয়েছে।