আন্তর্জাতিক ডেস্ক
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে স্থাপিত অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের ওপর পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক আমদানি নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব বিবেচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ লক্ষ্যে ইউরোপীয় কমিশন একটি অভ্যন্তরীণ অপশনস পেপার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিতরণ করেছে বলে জানিয়েছে ইউরোনিউজ।
প্রস্তাবটি কার্যকর হলে অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে ইউরোপের বাণিজ্য সীমিত করার ক্ষেত্রে এটি হবে ইইউর সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপগুলোর একটি।
তিনটি বিকল্প বিবেচনায় কমিশন
ইউরোপীয় কমিশনের নথিতে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদারের জন্য তিনটি পৃথক বিকল্প তুলে ধরা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
- এসব পণ্যের ওপর সম্পূর্ণ বা আংশিক আমদানি নিষেধাজ্ঞা,
- রপ্তানি লাইসেন্সিং ব্যবস্থা আরও কঠোর করা, এবং
- উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ, যাতে এসব পণ্যের আমদানি কার্যত নিরুৎসাহিত হয়।
বর্তমানে এসব বসতির পণ্য ইইউর অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধার আওতায় পড়ে না।
শুক্রবার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূতরা একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এ প্রস্তাবের প্রাথমিক মূল্যায়ন করবেন। এরপর বিষয়টি সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে আলোচনার জন্য তোলা হবে।
তাৎক্ষণিক বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম
তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, এই প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খুবই কম।
কারণ এটি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আইন প্রস্তাব নয়; বরং সম্ভাব্য নীতিগত বিকল্প নিয়ে প্রস্তুত করা একটি অনুসন্ধানমূলক নথি।
এছাড়া পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ইইউ ফরেন অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল বৈঠক অক্টোবরের আগে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা নয়।
কূটনৈতিক মহলের ধারণা, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এখনো পূর্ণ ঐকমত্য না থাকায় ইউরোপীয় কমিশন বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
প্রযুক্তিগত মূল্যায়নেও বলা হয়েছে, শুধু লাইসেন্স কঠোর করা বা শুল্ক বাড়ানো হলে অনেক রপ্তানিকারক বসতির পণ্যকে মূল ভূখণ্ডের ইসরায়েলি পণ্য হিসেবে লেবেল পরিবর্তন করে বা একসঙ্গে মিশিয়ে নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।
আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে মতপার্থক্য
এই বাণিজ্যিক পদক্ষেপ বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি নিয়েও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ইইউর অভিন্ন পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির আওতায় নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে সব সদস্য রাষ্ট্রের সর্বসম্মত সমর্থন প্রয়োজন হবে।
অন্যদিকে, ইইউ কাউন্সিলের আইনি বিশেষজ্ঞদের মত হলো, বিষয়টি বাণিজ্যনীতি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সেই ক্ষেত্রে সর্বসম্মতির পরিবর্তে যোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট (Qualified Majority Voting)-এর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে, ফলে কোনো একক সদস্য রাষ্ট্রের ভেটো কার্যকর হবে না।
ফ্রান্স-সুইডেনের উদ্যোগে গতি পেয়েছে আলোচনা
এপ্রিল মাস থেকে এই উদ্যোগ নতুন গতি পায় ফ্রান্স ও সুইডেনের যৌথ প্রচেষ্টায়।
তারা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (ICJ) ২০২৪ সালের পরামর্শমূলক মতামতের উল্লেখ করে অবৈধ বসতিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়।
পরবর্তীতে জুনে লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত ইইউ শীর্ষ বৈঠকে অন্তত ২০টি সদস্য রাষ্ট্র অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত করার বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তুতের আনুষ্ঠানিক দাবি জানায়।
তাদের যুক্তি, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতির সম্প্রসারণ জাতিসংঘের একাধিক প্রস্তাব এবং ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তির মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
সূত্র : ক্ল্যাশ রিপোর্ট
