যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ফ্রান্স ও ইতালি দক্ষিণ লেবাননে নতুন একটি বহুজাতিক আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ দিকে বর্তমান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ শেষ হলে নতুন এই বাহিনী দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হবে দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা জোরদার করা, লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তা দেওয়া এবং সীমান্ত এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করা। ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবানন সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই এই পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং এর মূল উদ্দেশ্য দেশটির নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। বর্তমানে প্যারিসে সম্ভাব্য বাহিনীর কাঠামো, সদস্য রাষ্ট্র, দায়িত্বের পরিধি এবং মোতায়েনের রূপরেখা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবুও বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা, হিজবুল্লাহকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং বর্তমান শান্তিরক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণেই নতুন বাহিনী গঠনের উদ্যোগ সামনে এসেছে। দক্ষিণ লেবাননে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক বাহিনীর সদস্যদের চলাচলে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জও এই আলোচনাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন বাহিনী শুধু সীমান্ত পর্যবেক্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা সমন্বয় এবং স্থিতিশীলতা রক্ষায়ও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তবে এই বাহিনীতে কোন কোন দেশ অংশ নেবে, কতসংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হবে এবং এটি জাতিসংঘের অধীনেই পরিচালিত হবে নাকি পৃথক আন্তর্জাতিক কাঠামোর আওতায় কাজ করবে—এসব বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে পুরো পরিকল্পনাটি এখনো আলোচনা ও প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে। তবুও কূটনৈতিক মহলের ধারণা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে এবং সীমান্ত অঞ্চলে নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সূচনা হতে পারে। একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। তাই বিষয়টি শুধু লেবাননের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সমগ্র অঞ্চলের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক•Jul 4, 2026•5 min read
দক্ষিণ লেবাননে নতুন আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা ফ্রান্স-ইতালির, UNIFIL-এর বিকল্প নিয়ে জোর আলোচনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক•আন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক
দক্ষিণ লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ শেষে নতুন আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়ে ফ্রান্স, ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে আলোচনা চলছে।
শেয়ার করুন:

সম্পর্কিত খবর
হাইতিতে জাতিসংঘ-সমর্থিত গ্যাং দমন বাহিনীতে ১,৫০০ সদস্য পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ
হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাং দমনে জাতিসংঘ-সমর্থিত বাহিনীতে প্রায় ১,৫০০ বাংলাদেশি সদস্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ, যা বড় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মোতায়েন।
কলকাতায় অগ্নিকান্ডের পর আতঙ্কে তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা ।
কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশিসহ ৯ জন নিহতের পর নিরাপত্তা উদ্বেগে বাংলাদেশি পর্যটকদের অনেকে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন।
নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ইরানের আইআরজিসির দাবি
নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আগের সংঘাতের তুলনায় আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বন্দ্বে দক্ষিণ কোরিয়াকেনিরপেক্ষ থাকার আহ্বান চীনের
যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দক্ষিণ কোরিয়াকে ভারসাম্যপূর্ণ থাকার আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে দুই কোরিয়ার সংলাপ পুনরায় শুরুর আহ্বানও জানানো হয়েছে।