আন্তর্জাতিক•Aug 5, 2026•5 min read

ফ্রান্সে দাবানলের পর মিলল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৪ শতাধিক অবিস্ফোরিত গোলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক•আন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

ফ্রান্সের জিরোন্দ অঞ্চলে দাবানলের পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৪০০টির বেশি অবিস্ফোরিত গোলা উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাটি জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

শেয়ার করুন:
ফ্রান্সে দাবানলের পর মিলল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৪ শতাধিক অবিস্ফোরিত গোলা

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরোন্দ অঞ্চলের লে পর্জ গ্রামে সাম্প্রতিক ভয়াবহ দাবানলের পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ৪০০টিরও বেশি অবিস্ফোরিত গোলা ও বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে, কয়েক দশক আগে শেষ হওয়া একটি যুদ্ধের বিপজ্জনক উত্তরাধিকার আজও অনেক অঞ্চলে মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে রয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, গত মাসে দাবানল নিয়ন্ত্রণে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়িতে ফিরতে শুরু করলে এলাকাজুড়ে বিপুল পরিমাণ পুরোনো গোলাবারুদের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। দাবানলের সময় বনাঞ্চলে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগুনের তীব্র তাপে মাটির নিচে বা বনাঞ্চলে বহু বছর ধরে চাপা পড়ে থাকা কিছু গোলাবারুদ বিস্ফোরিত হতে শুরু করায় ঘটনাটি সামনে আসে।

পরে ফরাসি সিভিল সুরক্ষা বিভাগের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী বিশেষজ্ঞ দল অভিযান চালিয়ে ৪০০টিরও বেশি অবিস্ফোরিত গোলা ও যুদ্ধাস্ত্র নিরাপদে উদ্ধার করে এবং সেগুলো জনবসতি থেকে দূরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এখনো মাটির নিচে রয়ে গেছে। বনাঞ্চলে দাবানল, নির্মাণকাজ, কৃষিকাজ কিংবা খনন কার্যক্রমের সময় এগুলো প্রায়ই সামনে আসে এবং জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করে। এমন পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজে প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সামান্য অসাবধানতাও বড় ধরনের প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এ কারণে ফরাসি কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে জানিয়েছে, কোনো সন্দেহজনক বিস্ফোরক বা ধাতব বস্তু দেখতে পেলে সেটি স্পর্শ না করে দ্রুত নিরাপত্তা বাহিনীকে জানাতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা শুধু ফ্রান্স নয়, যুদ্ধের ইতিহাস বহনকারী বহু দেশের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। অতীতের যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও তার রেখে যাওয়া অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ বহু বছর পরও মানুষের জীবন, পরিবেশ ও অবকাঠামোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এমন এলাকায় নিয়মিত অনুসন্ধান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ভবিষ্যতের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সম্পর্কিত খবর

স্থল অভিযান সৌদির জন্য ‘আত্মঘাতী’ হবে: হুথি প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

ইয়েমেনে নতুন স্থল অভিযান চালালে সৌদি আরবের জন্য তা বড় ঝুঁকি হবে বলে সতর্ক করেছে হুথি নেতৃত্ব; তাইজ ও বাব আল-মান্দাব ঘিরে লড়াই তীব্র হচ্ছে।

ইসরায়েলি কূটনীতিক বহিষ্কারের হুমকি যুক্তরাজ্যের

পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ হলে ২৭ ইসরায়েলি কূটনীতিক বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাজ্য বলে প্রতিবেদন; দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে।

বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয়কে গুলি করল বিএসএফ

কুড়িগ্রামের উলিপুর সীমান্তে বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফ গুলি ও বিস্ফোরক ছুড়েছে বলে অভিযোগ; আহত দুজন রংপুরে চিকিৎসাধীন।

বড় শক্তিগুলোর সংঘাতের মঞ্চ হবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বঙ্গোপসাগরে বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতা বাড়লেও বাংলাদেশ সংঘাতের মঞ্চ হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী; কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।