আন্তর্জাতিক•Aug 3, 2026•3 min read

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলা।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক•আন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

যুদ্ধবিরতিতে অগ্রগতির দাবি সত্ত্বেও গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

শেয়ার করুন:
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলা।

গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা দিলেও, তার ঠিক পরদিনই গাজা উপত্যকার দক্ষিণ, মধ্য ও উত্তরাঞ্চলজুড়ে ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। রোববারের এসব হামলায় শিশুসহ অন্তত ১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার ফলে অনেক স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি একদিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর উপস্থিতি মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। এর কয়েকদিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত বছরের গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে এবং সেই লক্ষ্য সামনে রেখে একটি ১৫ দফা পরিকল্পনাও প্রকাশ করা হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিরতির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং সংঘাতের স্থায়ী অবসানের পথ তৈরি করা।

তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে এখনো সেই পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। হামাস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েল যদি সামরিক অভিযান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে এবং গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করে, তাহলে তারা নিরস্ত্রীকরণসহ পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে ইসরায়েলের অবস্থান হলো, হামাসের কার্যকর নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান বা নিরাপত্তা অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। ফলে উভয় পক্ষের শর্ত ও অবস্থানের পার্থক্যের কারণে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চললেও ময়দানের বাস্তবতা এখনো সংঘাতনির্ভর।

একদিকে যুদ্ধবিরতির আলোচনা, অন্যদিকে অব্যাহত বিমান হামলা—এই দ্বৈত পরিস্থিতি সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। এতে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, উভয় পক্ষ যদি সমঝোতার পথে অগ্রসর না হয়, তাহলে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং গাজার মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং টেকসই রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোই এখন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সম্পর্কিত খবর

স্থল অভিযান সৌদির জন্য ‘আত্মঘাতী’ হবে: হুথি প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

ইয়েমেনে নতুন স্থল অভিযান চালালে সৌদি আরবের জন্য তা বড় ঝুঁকি হবে বলে সতর্ক করেছে হুথি নেতৃত্ব; তাইজ ও বাব আল-মান্দাব ঘিরে লড়াই তীব্র হচ্ছে।

ইসরায়েলি কূটনীতিক বহিষ্কারের হুমকি যুক্তরাজ্যের

পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ হলে ২৭ ইসরায়েলি কূটনীতিক বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাজ্য বলে প্রতিবেদন; দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে।

বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয়কে গুলি করল বিএসএফ

কুড়িগ্রামের উলিপুর সীমান্তে বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফ গুলি ও বিস্ফোরক ছুড়েছে বলে অভিযোগ; আহত দুজন রংপুরে চিকিৎসাধীন।

বড় শক্তিগুলোর সংঘাতের মঞ্চ হবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বঙ্গোপসাগরে বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতা বাড়লেও বাংলাদেশ সংঘাতের মঞ্চ হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী; কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।