ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আপত্তি ও অসন্তোষ সত্ত্বেও গাজা নিয়ে আগে হওয়া সমঝোতাগুলো বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র অটল রয়েছে বলে জানিয়েছেন মধ্যস্থতাকারীরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ দফা গাজা পরিকল্পনার আওতায় ইতোমধ্যে যেসব বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, সেগুলো কার্যকর করার বিষয়ে ওয়াশিংটন পিছিয়ে যেতে চায় না। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকেও এ অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।
এই অবস্থানের তাৎপর্য হলো, ইসরায়েলি সরকারের রাজনৈতিক আপত্তি সত্ত্বেও আগে থেকে নির্ধারিত ও সম্মত বিষয়গুলো বাতিল বা স্থগিত করার পথে যেতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাৎ, যেসব বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলোকে গাজা পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা তৈরির ভিত্তি হিসেবে ধরে রাখতে চাইছে ওয়াশিংটন।
তবে চুক্তির সব বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে আলোচনা কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অমীমাংসিত বিষয়গুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর নেওয়া হতে পারে।
এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে। একদিকে আগে সম্পন্ন হওয়া সমঝোতাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে গাজায় যুদ্ধবিরতির কাঠামো ধরে রাখার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলোর সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের জন্য রেখে দেওয়া হচ্ছে।
চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে ওয়াশিংটনের এই অবস্থান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের মধ্যকার সাম্প্রতিক টানাপোড়েনকেও সামনে নিয়ে এসেছে। গাজা পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। নেতানিয়াহুর আপত্তির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকার অর্থ হলো, গাজা নিয়ে ওয়াশিংটন নিজস্ব কূটনৈতিক লক্ষ্য ধরে রাখতে চাইছে।
তবে চুক্তির অমীমাংসিত বিষয়গুলোর ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। বিশেষ করে ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী রূপ নেয়, তার ওপর পরবর্তী আলোচনার গতি ও সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান গাজা চুক্তির আগে সম্পন্ন হওয়া সমঝোতাগুলোকে সচল রাখার পাশাপাশি বিতর্কিত বিষয়গুলোতে সময় নেওয়ার কৌশল নির্দেশ করছে। ফলে সামনে মূল প্রশ্ন হবে—নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কতটা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে এবং গাজা চুক্তির অবশিষ্ট অংশ বাস্তবে কতটা কার্যকর করা সম্ভব হয়।
