আন্তর্জাতিকAug 13, 20264 min read

নেতানিয়াহুর আপত্তি সত্ত্বেও গাজা চুক্তি বাস্তবায়নে অটল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

নেতানিয়াহুর আপত্তি সত্ত্বেও গাজা চুক্তির আগে সম্মত বিষয়গুলো বাস্তবায়নে অটল যুক্তরাষ্ট্র। অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর হতে পারে।

শেয়ার করুন:
নেতানিয়াহুর আপত্তি সত্ত্বেও গাজা চুক্তি বাস্তবায়নে অটল যুক্তরাষ্ট্র

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আপত্তি ও অসন্তোষ সত্ত্বেও গাজা নিয়ে আগে হওয়া সমঝোতাগুলো বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র অটল রয়েছে বলে জানিয়েছেন মধ্যস্থতাকারীরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ দফা গাজা পরিকল্পনার আওতায় ইতোমধ্যে যেসব বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, সেগুলো কার্যকর করার বিষয়ে ওয়াশিংটন পিছিয়ে যেতে চায় না। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকেও এ অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।

এই অবস্থানের তাৎপর্য হলো, ইসরায়েলি সরকারের রাজনৈতিক আপত্তি সত্ত্বেও আগে থেকে নির্ধারিত ও সম্মত বিষয়গুলো বাতিল বা স্থগিত করার পথে যেতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাৎ, যেসব বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলোকে গাজা পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা তৈরির ভিত্তি হিসেবে ধরে রাখতে চাইছে ওয়াশিংটন।

তবে চুক্তির সব বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে আলোচনা কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অমীমাংসিত বিষয়গুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর নেওয়া হতে পারে।

এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে। একদিকে আগে সম্পন্ন হওয়া সমঝোতাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে গাজায় যুদ্ধবিরতির কাঠামো ধরে রাখার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলোর সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের জন্য রেখে দেওয়া হচ্ছে।

চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে ওয়াশিংটনের এই অবস্থান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের মধ্যকার সাম্প্রতিক টানাপোড়েনকেও সামনে নিয়ে এসেছে। গাজা পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। নেতানিয়াহুর আপত্তির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকার অর্থ হলো, গাজা নিয়ে ওয়াশিংটন নিজস্ব কূটনৈতিক লক্ষ্য ধরে রাখতে চাইছে।

তবে চুক্তির অমীমাংসিত বিষয়গুলোর ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। বিশেষ করে ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী রূপ নেয়, তার ওপর পরবর্তী আলোচনার গতি ও সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করতে পারে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান গাজা চুক্তির আগে সম্পন্ন হওয়া সমঝোতাগুলোকে সচল রাখার পাশাপাশি বিতর্কিত বিষয়গুলোতে সময় নেওয়ার কৌশল নির্দেশ করছে। ফলে সামনে মূল প্রশ্ন হবে—নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কতটা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে এবং গাজা চুক্তির অবশিষ্ট অংশ বাস্তবে কতটা কার্যকর করা সম্ভব হয়।

সম্পর্কিত খবর

হাইতিতে জাতিসংঘ-সমর্থিত গ্যাং দমন বাহিনীতে ১,৫০০ সদস্য পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাং দমনে জাতিসংঘ-সমর্থিত বাহিনীতে প্রায় ১,৫০০ বাংলাদেশি সদস্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ, যা বড় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মোতায়েন।

কলকাতায় অগ্নিকান্ডের পর আতঙ্কে তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা ।

কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশিসহ ৯ জন নিহতের পর নিরাপত্তা উদ্বেগে বাংলাদেশি পর্যটকদের অনেকে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন।

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ইরানের আইআরজিসির দাবি

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আগের সংঘাতের তুলনায় আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বন্দ্বে দক্ষিণ কোরিয়াকেনিরপেক্ষ থাকার আহ্বান চীনের

যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দক্ষিণ কোরিয়াকে ভারসাম্যপূর্ণ থাকার আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে দুই কোরিয়ার সংলাপ পুনরায় শুরুর আহ্বানও জানানো হয়েছে।