পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাওয়ালপিন্ডির কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হবে। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি চিকিৎসা বোর্ড তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেবে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত তাকে হাসপাতালেই রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং তার বোন ডা. উজমা খানকেও চিকিৎসা বোর্ডে রাখার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে তার চিকিৎসার ক্ষেত্রে পরিবার ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সরাসরি সম্পৃক্ততার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। হাসপাতালে অবস্থানের সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ফোনে যোগাযোগের অনুমতিও দিয়েছে আদালত। বিশেষ করে বিদেশে থাকা তার দুই ছেলের সঙ্গে নিয়মিত ফোনে কথা বলার সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে তার পরিবার ও সমর্থকদের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। কারাগারে থাকা অবস্থায় তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসার দাবি উঠেছিল। পাশাপাশি রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন ও উদ্বেগজনিত শারীরিক সমস্যার কথাও তার সমর্থক ও আইনজীবীরা জানিয়েছেন। তার দুই ছেলে দীর্ঘদিন ধরে বাবার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। নিরাপত্তা ও ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে তারা দীর্ঘ সময় সরাসরি বাবার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আদালতের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে। ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ আদালতের নির্দেশকে স্বাগত জানালেও দেশটির আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার জানিয়েছেন, সরকার আদেশটি চ্যালেঞ্জ করার পরিকল্পনা করছে। সরকারের যুক্তি হলো, কারাবন্দিদের চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতাল অথবা কারাগারের বিদ্যমান চিকিৎসা ব্যবস্থাই ব্যবহার করা উচিত। ব্যক্তিগত হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও সরকার প্রশ্ন তুলেছে।
ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। ইমরান এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন। ফলে তার চিকিৎসা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশ শুধু স্বাস্থ্যগত বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এটি পাকিস্তানের দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক বিরোধের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়েছে।
একদিকে আদালত ইমরানের চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ তত্ত্বাবধান ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের অধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে, অন্যদিকে সরকার সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের কথা বলছে। ফলে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের শুনানি ইমরান খানের চিকিৎসা ও কারাবাসের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
