প্রযুক্তিJun 25, 20264 min read

চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণকারী কোম্পানীগুলোর উপর ভারতের নিষেধাঞ্জা, কিন্তু ঢুকতে পারবে প্রযুক্তি!

প্রযুক্তি ডেস্কপ্রযুক্তি|প্রযুক্তি

ভারত চীনা গাড়ি নির্মাতাদের সরাসরি প্রবেশ সীমিত রাখলেও বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রযুক্তিভিত্তিক সহযোগিতা ধীরে ধীরে শিল্পখাতে প্রবেশ করছে।

শেয়ার করুন:
চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণকারী কোম্পানীগুলোর উপর ভারতের নিষেধাঞ্জা, কিন্তু ঢুকতে পারবে প্রযুক্তি!

ভারত চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতাদের সরাসরি বাজারে প্রবেশে কঠোর অবস্থান বজায় রাখলেও বাস্তবে চীনের প্রযুক্তিগত উপস্থিতি দেশটির গাড়ি শিল্পে ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে। ২০২০ সালের সীমান্ত উত্তেজনার পর ভারত চীনা বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক অংশগ্রহণের ওপর নজরদারি ও বিধিনিষেধ বাড়ায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, সরাসরি মালিকানা বা যৌথ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া প্রযুক্তি, নকশা এবং উৎপাদন অবকাঠামোভিত্তিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের অটোমোবাইল খাতের সম্পর্ক নতুন রূপ নিচ্ছে।

ভারতের অন্যতম বড় গাড়ি নির্মাতা টাটা মোটরস সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে তারা উন্নত মানের বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনে চীনের চেরির গাড়ি নির্মাণ কাঠামো ব্যবহার করবে। এই ব্যবস্থায় কোনো মালিকানাগত অংশীদারত্ব বা সরাসরি প্রযুক্তি হস্তান্তর নেই; বরং এটি সরবরাহ ও উৎপাদনভিত্তিক সহযোগিতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারত দ্রুত নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি বাজারে আনতে পারবে এবং দীর্ঘমেয়াদে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সামনে এখন একটি বাস্তবতা স্পষ্ট হচ্ছে—বিশ্বের অন্যতম উন্নত বৈদ্যুতিক যান প্রযুক্তিকে পুরোপুরি বাইরে রাখা কঠিন। ভারত যদি উৎপাদন সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ভূমিকা নিতে চায়, তাহলে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। একইভাবে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও ভারতের মতো দ্রুত বর্ধনশীল বৃহৎ বাজার উপেক্ষা করা সহজ নয়।

এই পরিবর্তন শুধু গাড়ি উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। বৈদ্যুতিক যানের শক্তিচালনা ব্যবস্থা, উপাদান উৎপাদন এবং ব্যাটারি খাতেও চীনা প্রযুক্তির প্রভাব বাড়ছে। ভারতীয় কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে চীনা অংশীদারদের সঙ্গে উৎপাদন সহযোগিতা শুরু করেছে। তবে সব উদ্যোগ সমানভাবে সফল হয়নি। রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও প্রযুক্তি সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু প্রযুক্তি লাইসেন্সিং উদ্যোগ স্থগিত হয়েছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান স্থানীয় গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।

এদিকে নতুন শিল্প সহযোগিতার আরেকটি বড় উদাহরণ হলো ভারতের একটি নতুন গাড়ি উদ্যোগের মাধ্যমে চীনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক ও সংকর গাড়ি উৎপাদনের পরিকল্পনা। প্রাথমিকভাবে আমদানিকৃত যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হলেও ধাপে ধাপে স্থানীয় সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দেখাচ্ছে যে বর্তমান বৈশ্বিক শিল্প প্রতিযোগিতায় সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রিত সহযোগিতা অনেক দেশের জন্য বেশি কার্যকর কৌশল হয়ে উঠছে। ভারতের ক্ষেত্রেও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা এখন সবচেয়ে বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ।

সম্পর্কিত খবর

হাইতিতে জাতিসংঘ-সমর্থিত গ্যাং দমন বাহিনীতে ১,৫০০ সদস্য পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাং দমনে জাতিসংঘ-সমর্থিত বাহিনীতে প্রায় ১,৫০০ বাংলাদেশি সদস্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ, যা বড় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মোতায়েন।

কলকাতায় অগ্নিকান্ডের পর আতঙ্কে তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা ।

কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশিসহ ৯ জন নিহতের পর নিরাপত্তা উদ্বেগে বাংলাদেশি পর্যটকদের অনেকে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন।

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ইরানের আইআরজিসির দাবি

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আগের সংঘাতের তুলনায় আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বন্দ্বে দক্ষিণ কোরিয়াকেনিরপেক্ষ থাকার আহ্বান চীনের

যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দক্ষিণ কোরিয়াকে ভারসাম্যপূর্ণ থাকার আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে দুই কোরিয়ার সংলাপ পুনরায় শুরুর আহ্বানও জানানো হয়েছে।