আন্তর্জাতিক•Aug 5, 2026•5 min read

হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণে ইউরোপের অংশগ্রহণ বিবেচনায় ইরান, বদলাচ্ছে তেহরানের অবস্থান?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক•আন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণে ইউরোপের সীমিত অংশগ্রহণের বিষয়টি ইরান বিবেচনা করছে। এটি তেহরানের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শেয়ার করুন:
হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণে ইউরোপের অংশগ্রহণ বিবেচনায় ইরান, বদলাচ্ছে তেহরানের অবস্থান?

হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য মাইন অপসারণ কার্যক্রমে ইউরোপীয় দেশগুলোর সীমিত অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করছে ইরান বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি নিয়ে তেহরানের দীর্ঘদিনের অবস্থানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে একে দেখা হতে পারে। এতদিন ইরান প্রকাশ্যেই হরমুজ প্রণালীতে বিদেশি বাহিনীর মাইন অপসারণ বা সামুদ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে এসেছে এবং এ ধরনের পদক্ষেপকে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করেছে। তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনায় এমন একটি কাঠামো নিয়ে ভাবা হচ্ছে, যেখানে ইউরোপীয় অংশীদাররা সীমিত পরিসরে নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাইন অপসারণ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্ভাব্য অবস্থান পরিবর্তন ইরানের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত বহন করে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথে যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা সংকট বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, নৌপরিবহন এবং জ্বালানির মূল্যের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি, উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে তেহরানের এই সম্ভাব্য উদ্যোগ আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সীমিত সহযোগিতার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি বিকল্প পথ খুলে দিতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ইরান কিংবা সংশ্লিষ্ট ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা, আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়নি। তাই বিষয়টি এখনও কূটনৈতিক আলোচনা ও সম্ভাব্য নীতিগত বিবেচনার পর্যায়েই রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হলে তা শুধু উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সম্পর্কিত খবর

স্থল অভিযান সৌদির জন্য ‘আত্মঘাতী’ হবে: হুথি প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

ইয়েমেনে নতুন স্থল অভিযান চালালে সৌদি আরবের জন্য তা বড় ঝুঁকি হবে বলে সতর্ক করেছে হুথি নেতৃত্ব; তাইজ ও বাব আল-মান্দাব ঘিরে লড়াই তীব্র হচ্ছে।

ইসরায়েলি কূটনীতিক বহিষ্কারের হুমকি যুক্তরাজ্যের

পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ হলে ২৭ ইসরায়েলি কূটনীতিক বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাজ্য বলে প্রতিবেদন; দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে।

বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয়কে গুলি করল বিএসএফ

কুড়িগ্রামের উলিপুর সীমান্তে বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফ গুলি ও বিস্ফোরক ছুড়েছে বলে অভিযোগ; আহত দুজন রংপুরে চিকিৎসাধীন।

বড় শক্তিগুলোর সংঘাতের মঞ্চ হবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বঙ্গোপসাগরে বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতা বাড়লেও বাংলাদেশ সংঘাতের মঞ্চ হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী; কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।