আন্তর্জাতিক•Jun 3, 2026•4 min read

দখলকৃত ফিলিস্তিনে মসজিদের মাইকে আজান সীমিত করতে নতুন আইন প্রস্তাব, শুরু হয়েছে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক•আন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

দখলকৃত ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মসজিদে লাউডস্পিকারে আজান সীমিত করতে নতুন আইন প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে।

শেয়ার করুন:
দখলকৃত ফিলিস্তিনে মসজিদের মাইকে আজান সীমিত করতে নতুন আইন প্রস্তাব, শুরু হয়েছে বিতর্ক

দখলকৃত ফিলিস্তিন এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরে অবস্থিত মসজিদগুলোতে মাইকের মাধ্যমে আজান প্রচার সীমিত বা কার্যত নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে একটি নতুন আইন প্রস্তাবকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির এবং তার রাজনৈতিক মিত্রদের সমর্থনে উত্থাপিত এই প্রস্তাব সম্প্রতি মন্ত্রীপরিষদের আইনবিষয়ক কমিটির অনুমোদন পেয়েছে। ফলে এটি এখন সংসদে আলোচনার জন্য এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, কোনো মসজিদ পূর্বানুমতি ছাড়া মাইক স্থাপন বা ব্যবহার করতে পারবে না। অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে শব্দের মাত্রা, মসজিদের অবস্থান, আশপাশের আবাসিক এলাকা এবং সম্ভাব্য শব্দদূষণের বিষয় বিবেচনা করা হবে। আইন কার্যকর হলে পুলিশকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হবে। তারা অনুমতির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে মাইক বন্ধের নির্দেশ দিতে পারবে এবং প্রয়োজন হলে শব্দযন্ত্র জব্দও করতে পারবে। অনুমতি ছাড়া মাইক ব্যবহার বা স্থাপনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার শেকেল পর্যন্ত জরিমানা এবং শর্ত ভঙ্গের জন্য অতিরিক্ত জরিমানার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ইতামার বেন গভির দাবি করেছেন, এটি ধর্মীয় স্বাধীনতা সীমিত করার উদ্যোগ নয়; বরং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের একটি পদক্ষেপ। তার মতে, বিশেষ করে ভোরের সময় উচ্চ শব্দে প্রচারিত আজান অনেক এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর আগেও তিনি বিদ্যমান শব্দদূষণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তবে ফিলিস্তিনি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতারা এই উদ্যোগকে মুসলিম ধর্মীয় পরিচয় ও উপাসনার স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। জেরুজালেমের সর্বোচ্চ ইসলামি পরিষদের প্রধান এবং আল আকসা মসজিদের খতিব শায়খ ইকরিমা সাবরি বলেছেন, অতীতেও আজান সীমিত করার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেগুলো সফল হয়নি। তার মতে, এবার একই লক্ষ্য আইনগত কাঠামোর মাধ্যমে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দখলদার শক্তির এমন আইন প্রণয়নের কোনো নৈতিক বা বৈধ অধিকার নেই এবং এটি ধর্মীয় ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে একটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৭ সালের অনুরূপ উদ্যোগের তুলনায় বর্তমান প্রস্তাব অনেক বেশি কঠোর, কারণ এতে অনুমতিপত্র ব্যবস্থা, বড় অঙ্কের জরিমানা এবং শব্দযন্ত্র জব্দের মতো বিধান যুক্ত হয়েছে। ফলে বিষয়টি শুধু শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা, মানবাধিকার, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং দখলদারিত্বের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়েও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আইনটি এখনো চূড়ান্তভাবে পাস হয়নি, তবে এটি কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সম্পর্কিত খবর

স্থল অভিযান সৌদির জন্য ‘আত্মঘাতী’ হবে: হুথি প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

ইয়েমেনে নতুন স্থল অভিযান চালালে সৌদি আরবের জন্য তা বড় ঝুঁকি হবে বলে সতর্ক করেছে হুথি নেতৃত্ব; তাইজ ও বাব আল-মান্দাব ঘিরে লড়াই তীব্র হচ্ছে।

ইসরায়েলি কূটনীতিক বহিষ্কারের হুমকি যুক্তরাজ্যের

পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ হলে ২৭ ইসরায়েলি কূটনীতিক বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাজ্য বলে প্রতিবেদন; দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে।

বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয়কে গুলি করল বিএসএফ

কুড়িগ্রামের উলিপুর সীমান্তে বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফ গুলি ও বিস্ফোরক ছুড়েছে বলে অভিযোগ; আহত দুজন রংপুরে চিকিৎসাধীন।

বড় শক্তিগুলোর সংঘাতের মঞ্চ হবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বঙ্গোপসাগরে বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতা বাড়লেও বাংলাদেশ সংঘাতের মঞ্চ হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী; কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।