ইসরায়েলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশ ছাড়ার প্রবণতা বাড়ার পাশাপাশি বিদেশ থেকে ফিরে আসা নাগরিকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। নেসেটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিদেশ থেকে ইসরায়েলে ফিরে আসা বাসিন্দার সংখ্যা ৫৩ শতাংশ কমেছে। ২০২২ সালে প্রায় ২৯ হাজার ৬০০ ইসরায়েলি বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছিলেন। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা কমে প্রায় ২৪ হাজার ২০০ এবং ২০২৪ সালে আরও কমে প্রায় ১৮ হাজার ৮০০-তে দাঁড়ায়। একই সময়ে দীর্ঘমেয়াদে দেশ ছেড়ে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতাও দ্রুত বেড়েছে।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রথম ৭ মাসেই প্রায় ৪০ হাজার ৬০০ ইসরায়েলি দীর্ঘমেয়াদে দেশ ছেড়েছিলেন। আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২৫ হাজার ৫০০। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশত্যাগের হার প্রায় ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালের পুরো বছরেও এই প্রবণতা অব্যাহত ছিল এবং বিভিন্ন বিশ্লেষণে ওই বছরে ইসরায়েলের নিট অভিবাসন ভারসাম্য নেতিবাচক হয়ে পড়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
বিদেশে বসবাসরত ইসরায়েলিদের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেখান থেকেও প্রত্যাবর্তনের প্রবণতা কমেছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে সংস্থাভুক্ত দেশগুলোতে যাওয়া ইসরায়েলি নাগরিকদের প্রায় ৩৯ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলোতে ইসরায়েলিদের দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসনের বিষয়টি দেশটির জনসংখ্যাগত ভারসাম্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেক নাগরিকের বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। একই সঙ্গে বিদেশে থাকা নাগরিকদের দেশে ফিরে আসার ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বাধা তৈরি করছে। সরকারি স্বাস্থ্য বিমা পেতে বিলম্বসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক সমস্যার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করছে উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবীদের দেশত্যাগের প্রবণতা। চিকিৎসক, প্রকৌশলী এবং উচ্চপ্রযুক্তি খাতের কর্মীদের মধ্যে বিদেশমুখী প্রবণতা বাড়ার বিষয়টি সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে। এই শ্রেণির কর্মীরা সাধারণত দেশের উৎপাদনশীলতা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা এবং উচ্চ আয়ের কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাই তাদের দীর্ঘমেয়াদি দেশত্যাগ শুধু জনসংখ্যার হিসাবেই প্রভাব ফেলবে না; শ্রমবাজার, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রের দক্ষ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনাতেও চাপ তৈরি করতে পারে।
ফলে ইসরায়েলে কমে যাওয়া প্রত্যাবর্তন এবং বাড়তে থাকা দেশত্যাগকে শুধু সাময়িক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। যুদ্ধ, নিরাপত্তা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রশাসনিক সমস্যাগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলে এই প্রবণতা ভবিষ্যতে দেশটির জনসংখ্যা, দক্ষ মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
