জাপান সিরিয়ার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরও শিথিল করার পরিকল্পনা করছে। জাপানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সিরিয়ার ১৬টি কোম্পানি ও সংস্থার নাম নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নিতে পারে টোকিও। তবে একই সময়ে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এবং আরও ৫৯ ব্যক্তির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে জাপানের নীতিতে একদিকে সিরিয়ার নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে সাবেক সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার অবস্থানও স্পষ্ট হচ্ছে।
জাপানের এই উদ্যোগকে সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের বৃহত্তর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে সিরিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা পুনরায় শুরু করার পর থেকেই টোকিও ধীরে ধীরে দামেস্কের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পাশাপাশি সিরিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনে সরকারি উন্নয়ন সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনাও করছে জাপান। অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন পুনর্গঠনমূলক প্রকল্পে এই সহায়তা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সিরিয়ার পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় জাপানের সম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দক্ষতা ও জ্ঞান বিনিময়। জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা ইতোমধ্যে সিরিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য পুনর্গঠন ও নগর পরিকল্পনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে। জুলাইয়ে জাপানে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি ছিল দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা পুনরায় শুরুর পর এ ধরনের প্রথম উদ্যোগ। এর মাধ্যমে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নগর ব্যবস্থাপনা ও পুনর্গঠন পরিকল্পনায় সিরিয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
কূটনৈতিক যোগাযোগও একই সময়ে জোরদার হয়েছে। আগস্টের শুরুতে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা ব্যুরোর মহাপরিচালক কেইইচি ইওয়ামোতো দামেস্ক সফর করেন। সেখানে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়। এই ধারাবাহিক যোগাযোগ থেকেই বোঝা যায়, জাপান সিরিয়ার নতুন প্রশাসনের সঙ্গে ধীরে ধীরে একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে।
তবে নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার পথে এখনই যাচ্ছে না টোকিও। সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জাপান নতুন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা এবং পূর্ববর্তী শাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির মধ্যে একটি পৃথক অবস্থান বজায় রাখছে। অর্থাৎ, জাপানের নীতি সরাসরি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরিবর্তে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে পুনরায় সক্রিয় করার দিকে এগোচ্ছে।
সিরিয়ার জন্য এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দীর্ঘ সংঘাতের পর দেশটির পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং অবকাঠামো বিনিয়োগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। জাপানের নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ ও উন্নয়ন সহায়তা ভবিষ্যতে সিরিয়ার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে টোকিওর জন্যও সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক উপস্থিতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখার একটি পথ তৈরি করছে।
