আন্তর্জাতিক•Aug 10, 2026•5 min read

‘সুন্নি ন্যাটো’তে চীনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ, দুর্বল হচ্ছে মার্কিন নিরাপত্তা ছাতা।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক•আন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন সমীকরণ তৈরি করছে, যা চীনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।

শেয়ার করুন:
‘সুন্নি ন্যাটো’তে চীনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ, দুর্বল হচ্ছে মার্কিন নিরাপত্তা ছাতা।

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। চুক্তির মূল নীতি হলো, তিন সদস্যের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই কাঠামোর সঙ্গে ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির তুলনা করলেও তিন দেশ স্পষ্ট করেছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে গঠিত জোট নয় এবং এর উদ্দেশ্য প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতা জোরদার করা।

চুক্তিটি এমন সময়ে হয়েছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং উপসাগরীয় অবকাঠামোয় হামলার আশঙ্কা সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর নিরাপত্তা হিসাবকে জটিল করেছে। সংঘাতের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন হতো। ফলে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা শুধু আঞ্চলিক রাজনীতির নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তারও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এই পরিস্থিতিতে মক্কা চুক্তির সম্ভাব্য সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের একজন হতে পারে চীন। পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ চীনা অস্ত্র ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। ২০২১–২৫ সময়ে পাকিস্তানের প্রধান অস্ত্র আমদানির প্রায় ৮০ শতাংশ চীন থেকে এসেছে বলে স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে। ফলে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গভীর হলে চীনা যুদ্ধসরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য নতুন বাজার তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও চীনা প্রযুক্তির উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি ভূখণ্ডে পাকিস্তানি চীনা-নির্মিত যুদ্ধবিমান মোতায়েনের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে যৌথ প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতায় চীনের পরোক্ষ প্রভাব বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পারমাণবিক ক্ষেত্রও সম্ভাব্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে বেসামরিক পারমাণবিক সক্ষমতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জুলাইয়ের সহযোগিতা চুক্তি এই প্রচেষ্টায় অগ্রগতি আনলেও পারমাণবিক প্রযুক্তি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো কারণে সহযোগিতা সীমিত হলে রিয়াদ বিকল্প অংশীদার খুঁজতে পারে, যেখানে চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা ও পারমাণবিক সহযোগিতা বেইজিংকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

তবে মক্কা চুক্তিকে সরাসরি ‘সুন্নি ন্যাটো’ হিসেবে অভিহিত করা এখনই যথাযথ নয়। এটি ন্যাটোর মতো পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট নয় এবং এর বাস্তব কাঠামো ও বাধ্যতামূলক সামরিক প্রতিক্রিয়ার পরিধিও এখনো স্পষ্ট নয়। বরং এটি তিন দেশের নিরাপত্তা সমন্বয়ের একটি নতুন কাঠামো।

সব মিলিয়ে, মক্কা চুক্তি এখনই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নিরাপত্তা ছাতা ভেঙে দিচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো অতিরঞ্জিত হবে। তবে সৌদি আরব যদি যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি পাকিস্তান ও তুরস্কের মাধ্যমে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ায়, তাহলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বাজারে চীনের প্রভাব বিস্তারের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ কারণেই চুক্তিটির গুরুত্ব শুধু তিন দেশের সামরিক সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ শক্তির ভারসাম্যের একটি সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিতও বহন করছে।

সম্পর্কিত খবর

স্থল অভিযান সৌদির জন্য ‘আত্মঘাতী’ হবে: হুথি প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

ইয়েমেনে নতুন স্থল অভিযান চালালে সৌদি আরবের জন্য তা বড় ঝুঁকি হবে বলে সতর্ক করেছে হুথি নেতৃত্ব; তাইজ ও বাব আল-মান্দাব ঘিরে লড়াই তীব্র হচ্ছে।

ইসরায়েলি কূটনীতিক বহিষ্কারের হুমকি যুক্তরাজ্যের

পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ হলে ২৭ ইসরায়েলি কূটনীতিক বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাজ্য বলে প্রতিবেদন; দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে।

বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয়কে গুলি করল বিএসএফ

কুড়িগ্রামের উলিপুর সীমান্তে বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফ গুলি ও বিস্ফোরক ছুড়েছে বলে অভিযোগ; আহত দুজন রংপুরে চিকিৎসাধীন।

বড় শক্তিগুলোর সংঘাতের মঞ্চ হবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বঙ্গোপসাগরে বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতা বাড়লেও বাংলাদেশ সংঘাতের মঞ্চ হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী; কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।