আন্তর্জাতিকAug 21, 20264 min read

সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি, নেতানিয়াহুর কপালে চিন্তার ভাঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলার পর তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা বেড়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

শেয়ার করুন:
সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি, নেতানিয়াহুর কপালে চিন্তার ভাঁজ

সিরিয়ার নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তুরস্কের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও নিরাপত্তা ভূমিকা নিয়ে ইসরায়েল ও আঙ্কারার মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। সর্বশেষ এ বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিকে ঘিরে। ১৮ আগস্ট ইসরায়েল ওই বিমানঘাঁটিতে বিমান হামলা চালানোর পর ১৯ আগস্ট ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের দিকে তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি বিস্তারকে ইসরায়েল নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে এবং তা মেনে নেবে না।

ইসরায়েলের বক্তব্য অনুযায়ী, আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল এবং বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল। এই আশঙ্কার পরই বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। হামলায় রানওয়ে ও সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি সিরিয়ার ভেতরে দক্ষিণমুখীভাবে বিস্তৃত হলে তা ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে দামেস্ক এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে। সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি জানিয়েছেন, আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠার কোনো পরিকল্পনা নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিমানঘাঁটিটি মূলত সিরিয়ার বিমানবাহিনীর ব্যবহারের জন্য পুনর্গঠন করা হচ্ছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, সেখানে তুরস্কের সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতি থাকলেও সেটি প্রশিক্ষণ ও বৃহত্তর সামরিক সহযোগিতার অংশ।

তুরস্কও ইসরায়েলের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। আঙ্কারা ইসরায়েলি হামলাকে সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বেআইনি পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং তুরস্কের সামরিক উপস্থিতিকে ইসরায়েলের জন্য হুমকি হিসেবে উপস্থাপনের যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটি এখন শুধু সিরিয়ার একটি সামরিক স্থাপনা নয়, বরং ইসরায়েল ও তুরস্কের বৃহত্তর কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

এর তাৎপর্য আরও গভীর, কারণ সিরিয়ার নতুন সরকারের সঙ্গে তুরস্কের ঘনিষ্ঠ সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েল নতুন সিরীয় প্রশাসনের নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ফলে দামেস্কের সঙ্গে আঙ্কারার সম্পর্ক যত ঘনিষ্ঠ হবে, সিরিয়ায় ইসরায়েল ও তুরস্কের স্বার্থের সংঘাত তত স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, সিরিয়ার ভবিষ্যৎ শুধু অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনের বিষয় নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য পুনর্নির্ধারণেরও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।

সম্পর্কিত খবর

হাইতিতে জাতিসংঘ-সমর্থিত গ্যাং দমন বাহিনীতে ১,৫০০ সদস্য পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাং দমনে জাতিসংঘ-সমর্থিত বাহিনীতে প্রায় ১,৫০০ বাংলাদেশি সদস্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ, যা বড় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মোতায়েন।

কলকাতায় অগ্নিকান্ডের পর আতঙ্কে তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা ।

কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশিসহ ৯ জন নিহতের পর নিরাপত্তা উদ্বেগে বাংলাদেশি পর্যটকদের অনেকে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন।

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ইরানের আইআরজিসির দাবি

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আগের সংঘাতের তুলনায় আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বন্দ্বে দক্ষিণ কোরিয়াকেনিরপেক্ষ থাকার আহ্বান চীনের

যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দক্ষিণ কোরিয়াকে ভারসাম্যপূর্ণ থাকার আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে দুই কোরিয়ার সংলাপ পুনরায় শুরুর আহ্বানও জানানো হয়েছে।