প্রযুক্তিFeb 6, 20263 min read

প্রযুক্তি: উন্নতির হাতিয়ার, না কি নতুন বিভাজনের উৎস?

প্রযুক্তি ডেস্কপ্রযুক্তি|প্রযুক্তি

প্রযুক্তি আজ আর বিলাস নয়—জীবনের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু এই অগ্রগতি কি সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করছে, নাকি সমাজে নতুন ধরনের বৈষম্য জন্ম দিচ্ছে?

শেয়ার করুন:

একসময় প্রযুক্তি মানেই ছিল বিলাস—আজ তা জীবনের অপরিহার্য অংশ। মোবাইল ফোন ছাড়া দিন কল্পনা করা কঠিন, ইন্টারনেট ছাড়া তথ্য অচল, আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ছাড়া ভবিষ্যৎ যেন অসম্পূর্ণ। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই প্রযুক্তি কি সত্যিই সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করছে, নাকি অদৃশ্যভাবে নতুন এক বৈষম্য গড়ে তুলছে?
বাংলাদেশে গত এক দশকে প্রযুক্তির বিস্তার চোখে পড়ার মতো। ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে নাগরিক সেবা সহজ হয়েছে, অনলাইন শিক্ষা নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে, ফ্রিল্যান্সিং ও রিমোট কাজ হাজারো তরুণকে বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করেছে। এক অর্থে প্রযুক্তি আমাদের সীমাবদ্ধতাকে ভেঙে দিয়েছে।
তবে এর উল্টো দিকটিও উপেক্ষা করা যায় না। প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা এখন এক ধরনের ‘নতুন সাক্ষরতা’। যাদের কাছে দ্রুত ইন্টারনেট, আধুনিক ডিভাইস ও দক্ষতা আছে—তারা এগিয়ে যাচ্ছে। আর যাদের নেই, তারা ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ছে। এই ডিজিটাল বৈষম্য সমাজে নতুন শ্রেণি বিভাজনের জন্ম দিচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর সমস্যার কারণ হতে পারে।
আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো—ডেটা ও গোপনীয়তা। আমরা প্রতিদিন অসচেতনভাবে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য বিভিন্ন অ্যাপে, ওয়েবসাইটে দিয়ে দিচ্ছি। কে এই তথ্য ব্যবহার করছে, কীভাবে ব্যবহার করছে—তা অনেক সময় আমাদের জানা থাকে না। প্রযুক্তি যেমন জীবন সহজ করেছে, তেমনি ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর নতুন ধরনের ঝুঁকিও তৈরি করেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এআই এখন শুধু কাজ দ্রুত করার যন্ত্র নয়; এটি সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলছে—কোন খবর আমরা দেখবো, কোন বিজ্ঞাপন আমাদের সামনে আসবে, এমনকি চাকরির বাছাই প্রক্রিয়াতেও। প্রশ্ন হলো, এই সিদ্ধান্তগুলো কতটা স্বচ্ছ, আর কার স্বার্থ এতে অগ্রাধিকার পাচ্ছে?
তাই প্রযুক্তিকে অন্ধভাবে গ্রহণ নয়, প্রয়োজন সচেতন গ্রহণ। প্রযুক্তি নীতি নির্ধারণে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, ডিজিটাল শিক্ষা বিস্তারে সমান সুযোগ, এবং তথ্য সুরক্ষায় শক্ত অবস্থান—এই তিনটি বিষয় এখন সময়ের দাবি।
প্রযুক্তি নিজে ভালো বা খারাপ নয়; আমরা যেভাবে ব্যবহার করি, সেটাই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। যদি আমরা প্রযুক্তিকে কেবল ভোগের বস্তু না বানিয়ে, সমস্যা সমাধানের হাতিয়ার হিসেবে দেখি—তাহলেই এটি সত্যিকার অর্থে সমাজের উন্নতির শক্তি হতে পারে।

সম্পর্কিত খবর

হাইতিতে জাতিসংঘ-সমর্থিত গ্যাং দমন বাহিনীতে ১,৫০০ সদস্য পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাং দমনে জাতিসংঘ-সমর্থিত বাহিনীতে প্রায় ১,৫০০ বাংলাদেশি সদস্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ, যা বড় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মোতায়েন।

কলকাতায় অগ্নিকান্ডের পর আতঙ্কে তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা ।

কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশিসহ ৯ জন নিহতের পর নিরাপত্তা উদ্বেগে বাংলাদেশি পর্যটকদের অনেকে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন।

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ইরানের আইআরজিসির দাবি

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আগের সংঘাতের তুলনায় আরও উন্নত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বন্দ্বে দক্ষিণ কোরিয়াকেনিরপেক্ষ থাকার আহ্বান চীনের

যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দক্ষিণ কোরিয়াকে ভারসাম্যপূর্ণ থাকার আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে দুই কোরিয়ার সংলাপ পুনরায় শুরুর আহ্বানও জানানো হয়েছে।