যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইরানের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের মজুত কমে যাওয়ার পর রাশিয়া দেশটিকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ড্রোনের যন্ত্রাংশ সরবরাহ করছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুশ সামরিক সরঞ্জাম কাস্পিয়ান সাগর হয়ে ইরানে পৌঁছাচ্ছে। তবে এই সরবরাহের পরিমাণ, সরঞ্জামের ধরন এবং নিয়মিততার বিষয়ে প্রকাশ্যে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
কাস্পিয়ান সাগরকে এই সম্ভাব্য সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাশিয়া ও ইরান ছাড়াও আজারবাইজান, কাজাখস্তান ও তুর্কমেনিস্তান কাস্পিয়ান সাগরের তীরবর্তী দেশ। ২০১৮ সালে এই ৫ দেশ কাস্পিয়ান সাগরের আইনগত মর্যাদা সংক্রান্ত একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলো, কাস্পিয়ান সাগরে ওই ৫ দেশের বাইরে অন্য কোনো দেশের সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি থাকবে না।
এই বিধানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মতো কাস্পিয়ান সাগরের তীরবর্তী নয় এমন দেশের সামরিক বাহিনীর সরাসরি উপস্থিতি সেখানে সীমিত। ফলে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামুদ্রিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ কৌশলগত সুবিধা তৈরি হতে পারে। সরবরাহের অভিযোগ সত্য হলে, এই ভৌগোলিক ও আইনগত বাস্তবতা ইরানের জন্য সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় সংগ্রহের একটি তুলনামূলক সুবিধাজনক পথ তৈরি করতে পারে।
চলমান সংঘাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের ব্যবহার বেড়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত অব্যাহত থাকলে এসব অস্ত্রের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও গোলাবারুদের সরবরাহ নিশ্চিত করা তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সম্ভাব্য সহায়তা ইরানের সামরিক সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মার্কিন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাশিয়া ঠিক কী পরিমাণ অস্ত্র বা গোলাবারুদ ইরানে পাঠিয়েছে, কী ধরনের ড্রোনের যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা হয়েছে এবং কতদিন ধরে এই সরবরাহ চলছে—এসব তথ্য প্রকাশ্যে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই দাবিটিকে নিশ্চিত বাস্তবতা হিসেবে নয়, বরং মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করা একটি প্রতিবেদন হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
তারপরও কাস্পিয়ান সাগরের ভৌগোলিক অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে বিষয়টি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যদি রুশ সামরিক সহায়তার এই দাবি সত্য হয়, তাহলে কাস্পিয়ান সাগর ইরানের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পুনঃসরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে এটি চলমান সংঘাতে রাশিয়া ও ইরানের পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতার গুরুত্বও বাড়াতে পারে। তবে সরবরাহের প্রকৃত মাত্রা বোঝার জন্য আরও স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।
