বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর প্রথমবারের মতো পাকিস্তান সফরে গেছেন সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ হাসান আল-শাইবানি। ১৯–২০ আগস্ট ২০২৬ দুই দিনের সরকারি সফরে তিনি ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের আমন্ত্রণে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে এই সফর করছেন শাইবানি। সিরিয়ার নতুন সরকারের জন্য সফরটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সফরকালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। শাইবানি পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করবেন। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
২০২৪ সালের শেষ দিকে আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার নতুন প্রশাসন প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে। সেই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ানো দামেস্কের বহুমুখী কূটনৈতিক নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
এর আগে ২০২৫ সালের জুনে পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদল দামেস্কে শাইবানির সঙ্গে বৈঠক করেছিল। সে সময় পাকিস্তান সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। দুই দেশ নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। বর্তমান সফর সেই যোগাযোগের পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শাইবানির ইসলামাবাদ সফরের সময় সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সম্প্রতি ইসরায়েল সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। শাইবানি ওই হামলার সমালোচনা করার পাশাপাশি ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক পথ অনুসরণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সময়ে তুরস্কের সঙ্গে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা ও সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতাও গুরুত্ব পাচ্ছে।
পাকিস্তানের জন্যও সিরিয়ার নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।
সুতরাং শাইবানির এই সফরকে শুধু একটি দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সিরিয়ার নতুন প্রশাসন যখন তুরস্ক, উপসাগরীয় দেশ ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করছে, তখন পাকিস্তানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ দামেস্কের বিস্তৃত কূটনৈতিক ভারসাম্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভবিষ্যতে অর্থনীতি, পুনর্গঠন, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
