প্রায় ৪১ মাস পর আবারও গ্রিসের ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে একটি তুরস্কের সামরিক চালকবিহীন আকাশযান উড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা দুই প্রতিবেশী ন্যাটো সদস্য দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের আকাশসীমা ও সামুদ্রিক বিরোধকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। প্রতিরক্ষাবিষয়ক গ্রিক গণমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই তুরস্কের একটি অজ্ঞাত ধরনের চালকবিহীন সামরিক আকাশযান গ্রিসের ফারমাকোনিসি দ্বীপের ওপর দিয়ে উড়ে যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারির পর এটিই প্রথম এমন ঘটনা। অর্থাৎ প্রায় ৪১ মাস পর আবারও তুরস্কের কোনো সামরিক আকাশযান গ্রিক ভূখণ্ড অতিক্রম করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও এ ঘটনাটি এখনো দুই দেশের কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি, তবুও বিষয়টি ইতোমধ্যেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে।
গ্রিস ও তুরস্কের মধ্যে এজিয়ান সাগরকে কেন্দ্র করে বহু দশক ধরে আকাশসীমা, সামুদ্রিক সীমানা, দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্ব এবং একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এসব ইস্যুকে ঘিরে অতীতেও উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে এবং একাধিকবার যুদ্ধবিমান ও সামরিক উড়োজাহাজ মুখোমুখি অবস্থানে পৌঁছেছে। ফলে সামান্য কোনো সামরিক তৎপরতাও অনেক সময় বড় ধরনের কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার ইঙ্গিত মিললেও, নতুন এই উড্ডয়নের দাবি সেই ইতিবাচক পরিবেশকে আবারও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক তথ্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে তুরস্কের সামরিক চালকবিহীন আকাশযান সত্যিই গ্রিক ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে উড়েছে, তাহলে তা এজিয়ান অঞ্চলে নতুন করে সামরিক সতর্কতা, কূটনৈতিক প্রতিবাদ এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে ন্যাটোর দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশের সম্পর্কেও নতুন চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তুরস্ক বা গ্রিসের সরকার এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। ফলে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ সত্যতা, উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান ও পরবর্তী তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
