গাজায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার পর দেশটির শান্তি প্রতিষ্ঠার আন্তরিকতা নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তুলেছে তুরস্ক। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজাজুড়ে অব্যাহত বিমান হামলা এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি প্রমাণ করে যে বর্তমান ইসরায়েলি সরকারের প্রধান লক্ষ্য যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নয়; বরং সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা এবং ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে বাস্তুচ্যুত করা। তুরস্কের অভিযোগ, ইসরায়েল একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেও কার্যত ব্যর্থ করে দিচ্ছে। আঙ্কারার মতে, গাজায় যেভাবে ধারাবাহিকভাবে আবাসিক এলাকা ও বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা চলছে, তা শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক এবং এটি ইসরায়েলের রাজনৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে, যার ফলে শুধু মানবিক সংকটই গভীর হচ্ছে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাও নতুন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তুরস্ক মনে করে, গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয়, কার্যকর এবং ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা নিতে হবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী ও সামরিক নীতির বিরুদ্ধে আরও দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে আঙ্কারা। তুরস্কের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজায় বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে মানবিক বিপর্যয় আরও তীব্র হবে এবং এর প্রভাব শুধু ফিলিস্তিনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে অগ্রগতির কথা ঘোষণা করেছিলেন। তবে সেই ঘোষণার পরও গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক পর্যায়ে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চললেও মাঠের বাস্তবতায় সংঘাত এখনো থামেনি। ফলে শান্তি উদ্যোগের সফলতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আন্তর্জাতিক চাপ এবং পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। অন্যথায় চলমান সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
