রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন ও স্থল রোবটের ব্যাপক ব্যবহারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চলতি বছরের শুরুতে ইউরোপে গড়ে তোলা একটি বিশেষ ড্রোন ইউনিট পর্যায়ক্রমে বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ৩য় ব্যাটালিয়ন, ৫০৪তম প্যারাসুট ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের অধীনে ইউনিটটি গঠন করা হয়েছিল। এর মূল লক্ষ্য ছিল ভবিষ্যতের বড় আকারের যুদ্ধে ড্রোন, মানববিহীন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ড্রোনবিরোধী ব্যবস্থা কীভাবে ব্যবহার করা যায়, তা পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করা। ইউনিটটি ড্রোন তৈরি ও পরিচালনা, মানববিহীন যুদ্ধের অনুশীলন এবং নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করছিল।
তবে জার্মানিতে চলমান সামরিক মহড়ার পর ইউনিটটির ড্রোন-কেন্দ্রিক কার্যক্রম বন্ধ করে সেটিকে আবার প্রচলিত এয়ারবর্ন ইনফ্যান্ট্রি ইউনিটের দায়িত্বে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিবর্তনের পর প্রচলিত যুদ্ধ সক্ষমতা, মৌলিক সামরিক দক্ষতা এবং বড় আকারের স্থলযুদ্ধের প্রস্তুতির ওপর নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই পরিবর্তনকে সেনাবাহিনীর বৃহত্তর ‘মৌলিক সক্ষমতায় ফিরে যাওয়া’ নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউনিটটি আগের নেতৃত্বের সময় গড়ে উঠলেও নতুন নেতৃত্বের অধীনে এর কাঠামো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও এই পরিবর্তনকে সমর্থন করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বিশেষ ড্রোন ইউনিট বিলুপ্ত করার অর্থ মার্কিন সেনাবাহিনী ড্রোন যুদ্ধ থেকে সরে যাচ্ছে—এমন নয়। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইউনিটটির গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার ফলাফল ভবিষ্যতে ড্রোন যুদ্ধের কৌশল, প্রযুক্তি এবং বাহিনীর কাঠামো নির্ধারণে ব্যবহার করা হবে। অর্থাৎ, আলাদা একটি পরীক্ষামূলক ইউনিটের পরিবর্তে ড্রোন সক্ষমতাকে বৃহত্তর সামরিক কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতে ড্রোন নজরদারি, আক্রমণ, লক্ষ্য শনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ফলে দ্রুত পরিবর্তনশীল এই যুদ্ধপ্রযুক্তির সময়ে বিশেষায়িত একটি ড্রোন ইউনিটের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের গতি কমিয়ে দিতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। বিশেষ করে ভবিষ্যতের যুদ্ধে স্বল্পমূল্যের মানববিহীন ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ার সম্ভাবনার মধ্যে এমন সিদ্ধান্তকে তারা সতর্কতার সঙ্গে দেখছেন।
অন্যদিকে, মার্কিন সেনাবাহিনীর অবস্থান হলো, ড্রোন সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য অপরিবর্তিত রয়েছে। বরং পরীক্ষামূলক ইউনিটে অর্জিত অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে পুরো বাহিনীর মধ্যে ড্রোন ব্যবহারের আরও কার্যকর কাঠামো তৈরি করা হবে। ফলে এই সিদ্ধান্তকে ড্রোন যুদ্ধের অবসান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং বিশেষায়িত একটি ইউনিটের পরিবর্তে ড্রোন, মানববিহীন প্রযুক্তি ও প্রতিরোধব্যবস্থাকে প্রচলিত সামরিক ইউনিটের সঙ্গে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা যায়, মার্কিন সেনাবাহিনীর বর্তমান পরিবর্তন মূলত সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে।
