হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে ওমানের উপকূল ঘেঁষে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র একটি নিরাপদ সামুদ্রিক করিডোর তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তায় প্রতিদিন এই পথ দিয়ে প্রায় ১ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যে পরিমাণ তেল পরিবহন হতো, বর্তমান প্রবাহ তার প্রায় অর্ধেক। তবে কোনো কোনো রাতে এই পরিমাণ ১.৫ থেকে ২ কোটি ব্যারেল পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বর্তমানে প্রায় ১৫ থেকে ২০টি তেলবাহী ট্যাংকারকে একসঙ্গে নিয়ে রাতে এই নিরাপদ করিডোর দিয়ে উপসাগরে প্রবেশ ও বের করা হচ্ছে। জাহাজগুলোর ওপর মার্কিন যুদ্ধবিমান নজরদারি ও নিরাপত্তা দিচ্ছে। এই ব্যবস্থা মূলত সংঘাতের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সচল রাখা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথটি যতটা সম্ভব কার্যকর রাখার প্রচেষ্টা। তবে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সোমবার রাতে তেলবাহী জাহাজগুলোর দিকে এগিয়ে আসা ইরানের ৮টি ড্রোন ও ২টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব শুধু আঞ্চলিক নয়, এর প্রভাব সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পড়তে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য বাজারে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সংঘাতের কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব জ্বালানি মূল্য, পরিবহন ব্যয় এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক পাহারায় তেলবাহী জাহাজের চলাচল অব্যাহত রাখার উদ্যোগটি শুধু বাণিজ্যিক নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি সংঘাতের মধ্যেও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। তবে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হলেও তা যুদ্ধ-পূর্ব স্বাভাবিক প্রবাহের তুলনায় কম। অর্থাৎ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তায় সরাসরি মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ার ফলে হরমুজ প্রণালি এখন একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ ও সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্র হয়ে উঠছে। ৮টি ড্রোন ও ২টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার মার্কিন দাবি পরিস্থিতির ঝুঁকির মাত্রাও স্পষ্ট করছে। ফলে এই করিডোর কতটা নিরাপদ থাকে এবং তেল পরিবহনের প্রবাহ কতটা স্থিতিশীল রাখা যায়, তার ওপর আঞ্চলিক সংঘাতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎও অনেকাংশে নির্ভর করতে পারে।
