ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থার অধীন ভূমি রক্ষা ও বসতি প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় ব্যুরোর সাম্প্রতিক সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর সংঘটিত হামলার তদন্তে ৯৩ শতাংশেরও বেশি মামলা কোনো অভিযোগ দাখিল ছাড়াই বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। তুর্কি সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত এই তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যুরোর অভিযোগ, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি সমন্বিত নীতির অংশ, যেখানে অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ড পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে এবং এর পেছনে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে বলে তারা দাবি করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলা শুধু সংখ্যায়ই বাড়েনি, বরং তা আরও সংগঠিত ও পরিকল্পিত রূপ নিয়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনি কৃষক, বেদুইন ও অন্যান্য যাযাবর জনগোষ্ঠীকে তাদের বসতি ও কৃষিজমি থেকে উচ্ছেদ করে সেই এলাকায় অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা। একই প্রতিবেদনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সরকারের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এসব কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক সমর্থন দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ইসরায়েলি সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে দখলকৃত পশ্চিম তীরে ১,৩৩০টিরও বেশি বসতি স্থাপনকারী হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে বাড়ি ও মসজিদে অগ্নিসংযোগ, কৃষিজমি ও কৃষি অবকাঠামো ধ্বংস, পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষতি এবং সাধারণ মানুষের ওপর সহিংস হামলার মতো অভিযোগ রয়েছে।
ফিলিস্তিনি কলোনাইজেশন ও প্রাচীর প্রতিরোধ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধের প্রথম ১,০০০ দিনে দখলকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় ১২,৫০০ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, এসব হামলায় ৮২ জন ফিলিস্তিনি নিহত, ৮৯০টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা এবং ২০০টি নতুন অবৈধ বসতি স্থাপনের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ১,১৮২ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত, প্রায় ১৩,০০০ জন আহত এবং ২৪,৬০০ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যান সংশ্লিষ্ট ফিলিস্তিনি সংস্থাগুলোর প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে উপস্থাপিত হয়েছে এবং সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
