আন্তর্জাতিকAug 14, 20266 min read

ইউক্রেনের ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থের অস্ত্র পৌঁছায়নি সম্মুখসারির যোদ্ধাদের কাছে: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র কেনার জন্য আগাম অর্থ পরিশোধ করা হলেও ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের সরবরাহ সময়মতো ইউক্রেনীয় সেনাদের কাছে পৌঁছায়নি।

শেয়ার করুন:
ইউক্রেনের ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থের অস্ত্র পৌঁছায়নি সম্মুখসারির যোদ্ধাদের কাছে:  প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র কেনার জন্য আগাম অর্থ পরিশোধ করা হলেও ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের সরবরাহ সময়মতো ইউক্রেনীয় সেনাদের কাছে পৌঁছায়নি।

মন্ত্রণালয়ের প্রধান সামরিক ক্রয় সংস্থা Defense Procurement Agency (AOZ)-এর হিসাবে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়মতো নিষ্পত্তি না হওয়া এসব চুক্তির বিপরীতে পাওনা দাঁড়ায় ৪৫.৮ বিলিয়ন ইউক্রেনীয় হৃভনিয়া, যা প্রায় ১.০৭ বিলিয়ন ডলারের সমান।

এই অর্থ এমন সব সামরিক চুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত, যেখানে রাষ্ট্রীয় অর্থ ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহ কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ সম্পন্ন হয়নি।

পরিস্থিতির অবনতি দ্রুত হয়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর এই বকেয়া পাওনার পরিমাণ ছিল প্রায় ১৮ বিলিয়ন হৃভনিয়া। ২০২৪ সালের শেষে ছিল ১৪.৭ বিলিয়ন হৃভনিয়া।

সম্মুখসারিতে অস্ত্র সরবরাহে প্রভাব
প্রতিটি অসম্পন্ন চুক্তির অর্থ হলো—যুদ্ধরত ইউক্রেনীয় সেনাদের কাছে নির্ধারিত সময়ে কম সংখ্যক গোলাবারুদ, ড্রোন ও সাঁজোয়া যান পৌঁছানো।

বকেয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়ে ১.০৭ বিলিয়ন ডলারের এই অর্থ ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় স্বেচ্ছাসেবী সহায়তা সংস্থা Come Back Alive-এর পুরো যুদ্ধকালীন ব্যয়ের চেয়েও বেশি ছিল।

এটি দেশটির স্টেট সার্ভিস অব স্পেশাল কমিউনিকেশনস অ্যান্ড ইনফরমেশন প্রোটেকশনের এক বছরের সম্পূর্ণ ড্রোন ক্রয় বাজেটের সমানও ছিল।

দ্রুত বকেয়া বাড়তে থাকায় ইউক্রেনের দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলো AOZ-এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
Anti-Corruption Action Center (AntAC) এসব অসম্পন্ন চুক্তিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে “কাগজে থাকা অস্ত্র” হিসেবে বর্ণনা করেছে।

স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
দুর্নীতিবিরোধী পর্যবেক্ষকরা অভিযোগ করেন, প্রকৃত বকেয়ার পরিমাণ আড়াল করতে সংস্থাটি প্রকাশ্যে অপেক্ষাকৃত কম অঙ্কের তথ্য দিচ্ছিল এবং ক্রয়সংক্রান্ত তথ্যের জনসাধারণের প্রবেশাধিকার সীমিত করেছিল।

ইউক্রেনীয় সংসদ সদস্য ভিক্টোরিয়া সিউমার এবং কয়েকজন তদন্তকারী দাবি করেন, তথ্যের স্বচ্ছতা কমে যাওয়ায় কার্যকরভাবে সরবরাহ করতে ব্যর্থ ঠিকাদাররা সুবিধা পেয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া বা রাষ্ট্রীয় অর্থ ফেরত পাওয়ার প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

নাগরিক সমাজ ও দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলোর চাপের পর ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভ্যন্তরীণ সংস্থাগত বিধিনিষেধ পাশ কাটিয়ে যাচাই করা বকেয়ার পরিমাণ প্রকাশ করে।

কেন এত বেড়েছিল বকেয়া?
ক্রয় কর্মকর্তাদের দাবি, বকেয়া হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার একটি বড় কারণ ছিল চুক্তির কারিগরি শর্ত। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর একই সময়ে বিপুলসংখ্যক চুক্তির সরবরাহের সময়সীমা শেষ হয়ে যায়।

এর পাশাপাশি রুশ হামলায় ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা শিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২০২৫ সালের গ্রীষ্মে রুশ হামলায় ইউক্রেনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর উৎপাদন ব্যাহত হয়। এর ফলে ২০.১ বিলিয়ন হৃভনিয়ার বেশি মূল্যের সক্রিয় সামরিক চুক্তি আটকে যায়।

তিন গুণ কমেছে বকেয়া
তবে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে AOZ।
২০২৬ সালের জুলাইয়ের শেষ নাগাদ সংস্থাটি জানায়, বকেয়া পাওনার পরিমাণ প্রায় তিন গুণ কমে ১৪.৬ বিলিয়ন হৃভনিয়ায় নেমে এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় উৎপাদনে ফেরার পর আটকে থাকা সরবরাহের একটি বড় অংশ সম্পন্ন হয়েছে।

তবে এখনও প্রায় ১১.২ বিলিয়ন হৃভনিয়া চারটি সমস্যাগ্রস্ত সরবরাহকারীর সঙ্গে চলমান দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় আটকে আছে। এসব চুক্তি ২০২৪ সালে করা হয়েছিল।
এদিকে সরবরাহকারীদের কার্যক্রম নজরদারিতে এখন থেকে প্রতি তিন মাসে ক্রয়সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করেছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

যুদ্ধের মধ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার এবং ঠিকাদারদের জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ক্রয় ব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: ক্ল্যাশ রিপোর্ট

সম্পর্কিত খবর

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তুরস্কের আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

গাজামুখী ত্রাণবহরে ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দিবে ভারত: অমিত শাহ।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ৬ মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

হিন্দু উগ্রবাদী আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে। মোহন ভাগবতের সম্ভাব্য সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলের ‘ই-১’ বসতি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ৮ মুসলিম দেশের কঠোর অবস্থান

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ই-১ বসতি পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে ৮ মুসলিম দেশ। তারা ১,২০০ আবাসন ইউনিটের উদ্যোগ বাতিল ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।