শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের মামলায় পলাতক সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম। সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, শাপলা চত্বরের মামলায় কোনো পলাতক আসামিকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এটি প্রথম আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, জেনারেল আজিজ আহমেদ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য অথবা অন্য কোনো দেশে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় আনার লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার বিধি অনুসরণ করে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিতে এ বিষয়ে অগ্রগতি জানানো এবং প্রয়োজন হলে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনকে অবহিত করার কথাও বলা হয়েছে। প্রধান কৌঁসুলির স্বাক্ষর করা চিঠির অনুলিপি বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এনসিবি)-এর কাছেও পাঠানো হয়েছে।
প্রসিকিউশনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে মামলায় দেশের বাইরে অবস্থানরত আসামিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনি সহযোগিতা নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সক্রিয় হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের বাইরে অবস্থানরত মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে একই ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ফলে জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশের উদ্যোগটি শুধু একজন আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা নয়, বরং পলাতক আসামিদের বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে ২৭ জুলাই মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং অন্য মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার আসামিদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন। মামলায় সাবেক মন্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাদেরও আসামি করা হয়েছে।
এখন জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগের পর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে। রেড নোটিশের মাধ্যমে তাকে শনাক্ত ও আটক করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে; তবে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় হাজির করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইনি ও আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
