জাতীয়Jul 2, 20264 min read

বান্দরবানের দুর্গম রেতলাংয়ে ইউপিডিএফ ও কুকি-চিন আর্মির যৌথ ঘাঁটিতে সেনাবাহিনীর অভিযান, অস্ত্র উদ্ধার।

স্টাফ রিপোর্টাররিপোর্টার|জাতীয়

বান্দরবানের রেতলাং এলাকায় সেনাবাহিনীর অভিযানে ইউপিডিএফ ও কুকি-চিন আর্মির কথিত যৌথ ঘাঁটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং অস্ত্র উদ্ধারের দাবি উঠেছে। আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনও আসেনি।

শেয়ার করুন:
বান্দরবানের দুর্গম রেতলাংয়ে  ইউপিডিএফ ও কুকি-চিন আর্মির যৌথ ঘাঁটিতে সেনাবাহিনীর অভিযান, অস্ত্র উদ্ধার।

বান্দরবানের দুর্গম রেতলাং এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গত ১ জুলাই একটি বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। স্থানীয় ও নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী তীব্র গোলাগুলির পর সেনাবাহিনী একটি কথিত যৌথ সশস্ত্র ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এসব সূত্রের ভাষ্য, ঘাঁটিটি ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (মূল) এবং কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের সশস্ত্র শাখা কুকি-চিন আর্মি যৌথভাবে ব্যবহার করছিল। অভিযানের পর ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে হতাহতের সংখ্যা, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ধরন, অভিযানের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং কথিত যৌথ ঘাঁটির বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যদি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয় যে এটি সত্যিই দুই সশস্ত্র সংগঠনের যৌথ ঘাঁটি ছিল, তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ অতীতে বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের পৃথক কার্যক্রম বা অবস্থানের তথ্য সামনে এলেও একই ঘাঁটিতে দুই সংগঠনের যৌথ উপস্থিতির বিষয়টি আগে প্রকাশ্যে নিশ্চিত হওয়ার নজির নেই। গত কয়েক বছরে বান্দরবানের রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি এবং আশপাশের দুর্গম এলাকায় কুকি-চিন আর্মির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। পূর্ববর্তী বিভিন্ন অভিযানে প্রশিক্ষণকেন্দ্র, বাংকার, অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধারের পাশাপাশি সশস্ত্র সদস্য নিহত হওয়ার তথ্যও আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে রুমা উপজেলার দুর্গম রেং বা রাং ত্লাং এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে কুকি-চিন আর্মির একটি প্রশিক্ষণ শিবির ধ্বংস করা হয়। সে সময় প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম, পরিখা, গুলি চালনার প্রশিক্ষণ এলাকা এবং বিভিন্ন রসদ উদ্ধারের বিষয়টিও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল। সর্বশেষ রেতলাংয়ের এই অভিযান নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা দাবি সামনে এলেও এখন পর্যন্ত সরকারি নিশ্চিত তথ্য সীমিত রয়েছে। তাই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র, অভিযানের ফলাফল এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রকৃত মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও যাচাইযোগ্য তথ্যের অপেক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণে বর্তমান তথ্যকে প্রাথমিক দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত এবং পরবর্তী সরকারি নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হলে পরিস্থিতির আরও স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে।

সম্পর্কিত খবর

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তুরস্কের আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

গাজামুখী ত্রাণবহরে ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দিবে ভারত: অমিত শাহ।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ৬ মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

হিন্দু উগ্রবাদী আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে। মোহন ভাগবতের সম্ভাব্য সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলের ‘ই-১’ বসতি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ৮ মুসলিম দেশের কঠোর অবস্থান

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ই-১ বসতি পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে ৮ মুসলিম দেশ। তারা ১,২০০ আবাসন ইউনিটের উদ্যোগ বাতিল ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।