জাতীয়Jul 9, 20264 min read

৮৬ হাজার কোটি টাকার সামরিক বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ।

স্টাফ রিপোর্টাররিপোর্টার|জাতীয়

বাংলাদেশে প্রস্তাবিত ৮৬ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন পরিকল্পনায় তিন বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ গুরুত্ব পেয়েছে।

শেয়ার করুন:
৮৬ হাজার কোটি টাকার সামরিক বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ।

দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকার ১০ বছর মেয়াদি একটি বৃহৎ সামরিক আধুনিকায়ন পরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সক্ষমতায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে পারে এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশ আরও প্রস্তুত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটি ২ ধাপে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। প্রথম ৩ বছরে জরুরি সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের মাধ্যমে দ্রুত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে এবং পরবর্তী ৭ বছরে বাহিনীগুলোর কাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত রূপান্তর সম্পন্ন করা হবে। সেনাবাহিনীর জন্য আধুনিক কৌশলগত ড্রোন, রাতের অভিযানে ব্যবহারের উপযোগী দৃষ্টিযন্ত্র, ডিজিটাল যুদ্ধ পরিচালনা ব্যবস্থা, উন্নত সাঁজোয়া যান, যুদ্ধ ট্যাংক এবং দীর্ঘপাল্লার গোলন্দাজ ব্যবস্থা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সংঘাতগুলো দেখিয়েছে যে ভবিষ্যতের যুদ্ধ ক্রমেই প্রযুক্তি, তথ্যভিত্তিক পরিচালনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ড্রোননির্ভর হয়ে উঠছে। তাই এসব খাতে বিনিয়োগকে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্ব, সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতি, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং সামুদ্রিক সম্পদ সুরক্ষার লক্ষ্যে নৌবাহিনীর শক্তি বাড়ানোর ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনায় নতুন প্রজন্মের যুদ্ধজাহাজ, টহলজাহাজ এবং সাবমেরিন বহরের আধুনিকায়নের কথা উল্লেখ রয়েছে, যা সমুদ্রসীমায় নজরদারি ও নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে বিমানবাহিনীর জন্য আধুনিক যুদ্ধবিমান, আক্রমণকারী হেলিকপ্টার, দূরপাল্লার রাডার এবং ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আকাশসীমার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হয়। তবে এই পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দেশে একটি বিশেষায়িত প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ। এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ নিজস্ব সক্ষমতায় বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম, গোলাবারুদ ও হালকা অস্ত্র উৎপাদনের সুযোগ পাবে, ফলে বিদেশি নির্ভরতা কমবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশীয় প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা, সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সামরিক প্রতিযোগিতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই উদ্যোগের গুরুত্ব বেড়েছে। তাদের মতে, আধুনিক সামরিক সক্ষমতা কেবল যুদ্ধের জন্য নয়, বরং কূটনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রস্তাবিত এই ৮৬ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সক্ষমতার নতুন যুগে প্রবেশ করতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

সম্পর্কিত খবর

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তুরস্কের আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

গাজামুখী ত্রাণবহরে ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দিবে ভারত: অমিত শাহ।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ৬ মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

হিন্দু উগ্রবাদী আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে। মোহন ভাগবতের সম্ভাব্য সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলের ‘ই-১’ বসতি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ৮ মুসলিম দেশের কঠোর অবস্থান

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ই-১ বসতি পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে ৮ মুসলিম দেশ। তারা ১,২০০ আবাসন ইউনিটের উদ্যোগ বাতিল ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।