বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার দেশীয় সমরাস্ত্র, সামরিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, স্থানীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশে একটি পৃথক প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করা। সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পনীতি প্রণয়নের কাজও এগিয়ে নিচ্ছে, যার মাধ্যমে “বাংলাদেশে নির্মিত” প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের জন্য একটি শক্তিশালী শিল্পভিত্তি গড়ে তোলার রূপরেখা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ পরিকল্পনায় দেশীয় গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং উন্নত প্রযুক্তি অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি দেশে আনার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে মানববিহীন আকাশযান, উন্নত সংবেদক ব্যবস্থা, সামরিক ইলেকট্রনিক্স, যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং অন্যান্য আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বৃহত্তর বগুড়া অঞ্চলে মানববিহীন আকাশযান উৎপাদনের একটি কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই কারখানা চালু হলে সীমান্ত নিরাপত্তা, আকাশ নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সামরিক অভিযানে দেশের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সময়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে প্রায় ৫৫ একর জমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনুকূলে হস্তান্তরের নীতিগত অনুমোদন প্রতিরক্ষা শিল্প সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে ভবিষ্যতে আধুনিক প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হতে পারে, যেখানে গোলাবারুদ, হালকা অস্ত্র, সামরিক যানবাহনের যন্ত্রাংশ, যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা উপকরণ দেশেই উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে আমদানি নির্ভরতা কমবে, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে এবং প্রতিরক্ষা খাতে দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটবে। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলছে। এ লক্ষ্যে ৩ বছর এবং পরবর্তী ৭ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠা, মানববিহীন আকাশযান উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, গবেষণা ও দেশীয় শিল্পনীতির সমন্বিত বাস্তবায়ন সফল হলে আগামী দশকে বাংলাদেশ একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বনির্ভর প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষম রাষ্ট্র হিসেবে আঞ্চলিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হতে পারে।
জাতীয়•Jul 14, 2026•4 min read
নিজস্ব সমরাস্ত্র শিল্প বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ: প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল ও ড্রোন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা ।
স্টাফ রিপোর্টার•রিপোর্টার|জাতীয়
বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল ও মানববিহীন আকাশযান কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। লক্ষ্য দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, বিদেশি নির্ভরতা কমানো এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করা।
শেয়ার করুন:

সম্পর্কিত খবর
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তুরস্কের আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
গাজামুখী ত্রাণবহরে ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক।
বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দিবে ভারত: অমিত শাহ।
বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ৬ মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
হিন্দু উগ্রবাদী আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে। মোহন ভাগবতের সম্ভাব্য সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলের ‘ই-১’ বসতি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ৮ মুসলিম দেশের কঠোর অবস্থান
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ই-১ বসতি পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে ৮ মুসলিম দেশ। তারা ১,২০০ আবাসন ইউনিটের উদ্যোগ বাতিল ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।