সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির কাঠামো নিয়ে বাংলাদেশের সম্ভাব্য আগ্রহে নজর রাখছে ভারত। ঢাকার পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না এলেও বিষয়টি দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত সমীকরণে নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ঘিরে বাংলাদেশের সম্ভাব্য আগ্রহ দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় এই ধরনের অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা জানানো হয়েছে। তবে বাংলাদেশ এখনো চুক্তিটির সদস্য হওয়ার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ২১ আগস্টের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে জানান, নয়াদিল্লি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির পাশাপাশি মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভারতের দৃষ্টিতে এর সম্ভাব্য প্রভাব জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
মক্কা চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা। তবে পাকিস্তান ও সৌদি আরব জানিয়েছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠিত সামরিক জোট নয় এবং ভবিষ্যতে অন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্যও এর কাঠামো উন্মুক্ত থাকতে পারে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার চুক্তিটিকে প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বাংলাদেশের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার গুরুত্ব এখানেই যে, বিষয়টি শুধু সামরিক সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক যোগাযোগও যুক্ত হতে পারে। সৌদি আরব বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক অংশীদার। একই সঙ্গে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প এবং পাকিস্তানের সামরিক সহযোগিতার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক কৌশলগত গুরুত্বের কারণে ঢাকার যেকোনো নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব ভারতের জন্য স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা বাড়লে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও কৌশলগত সম্পর্কের সমীকরণে নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ভারত বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেনি; বরং চুক্তিটির সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়নের কথা জানিয়েছে। বাংলাদেশের জন্য মূল প্রশ্ন হবে, নতুন সহযোগিতার সুযোগ গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিবেশী ভারতসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা যায়। ফলে মক্কা কাঠামো নিয়ে ঢাকার আগ্রহকে সরাসরি কোনো শক্তির বলয়ে যোগদানের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশের কৌশলগত পরিসর বাড়ানোর সম্ভাব্য প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামনে ঢাকার সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, এই উদ্যোগ কেবল আলোচনার পর্যায়ে থাকবে, নাকি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
