জাতীয়Aug 7, 20262 min read

বাংলাদেশের সকল বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বসছে এন্টি ড্রোন প্রযুক্তি

স্টাফ রিপোর্টাররিপোর্টার|জাতীয়

বাংলাদেশের সব বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে এন্টি-ড্রোন প্রযুক্তি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোনের উড্ডয়ন ঠেকানো এবং উড়োজাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের সকল বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বসছে এন্টি ড্রোন প্রযুক্তি

বাংলাদেশের সব বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে এন্টি-ড্রোন প্রযুক্তি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোনের উড্ডয়ন ঠেকানো এবং উড়োজাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার কুর্মিটোলায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (NCASC) প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে এন্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগের কথা জানান।

বর্তমানে বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত কাজে ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তবে বিমানবন্দরের আশপাশে অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন উড়োজাহাজের নিরাপদ ওঠানামার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে উড়োজাহাজের উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় রানওয়ে বা এর আশপাশে কোনো ড্রোন প্রবেশ করলে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। একই সঙ্গে ড্রোনের কারণে ফ্লাইট বিলম্ব, অবতরণ স্থগিত বা বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

বেবিচক জানিয়েছে, বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন ঠেকাতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন এন্টি-ড্রোন প্রযুক্তি এসব ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।।

কীভাবে কাজ করবে এন্টি-ড্রোন প্রযুক্তি

আধুনিক Counter-UAS বা এন্টি-ড্রোন ব্যবস্থা সাধারণত বিভিন্ন সেন্সর ও নজরদারি প্রযুক্তির সমন্বয়ে কাজ করে। এর মাধ্যমে বিমানবন্দরের আকাশসীমায় প্রবেশ করা সন্দেহজনক ড্রোন শনাক্ত, অনুসরণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিরোধ করা সম্ভব।

একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থায় রাডার, রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি (RF) সেন্সর, ক্যামেরা ও অন্যান্য নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। এসব সেন্সরের মাধ্যমে কোনো উড়ন্ত বস্তু শনাক্ত হওয়ার পর সেটি ড্রোন কি না, কোথায় অবস্থান করছে এবং কোন দিকে যাচ্ছে—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করা যায়।

ঝুঁকিপূর্ণ ড্রোন শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করার পাশাপাশি অনুমোদিত প্রযুক্তির মাধ্যমে সেটির হুমকি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

তবে বাংলাদেশ ঠিক কোন দেশের বা কোন প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ব্যবহার করবে এবং কী ধরনের এন্টি-ড্রোন সিস্টেম সংগ্রহ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।।

আট বিমানবন্দরে বাড়বে নিরাপত্তা

বাংলাদেশে বর্তমানে নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনাকারী আটটি বিমানবন্দর রয়েছে। এগুলো হলো—ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কক্সবাজার বিমানবন্দর, রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দর, যশোর বিমানবন্দর, সৈয়দপুর বিমানবন্দর এবং বরিশাল বিমানবন্দর।

তবে সব বিমানবন্দরে কখন, কতটি এবং কী ধরনের এন্টি-ড্রোন ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

শুধু এন্টি-ড্রোন নয়, বাড়ছে সামগ্রিক নিরাপত্তা

বিমানবন্দর নিরাপত্তা আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে শুধু ড্রোন প্রতিরোধ নয়, অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির সভায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্ক্যানার স্থাপন, বিমানবন্দর নিরাপত্তা প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথের নিরাপত্তা আরও জোরদার এবং আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেম (UVSS) উন্নত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।।

ICAO নিরাপত্তা মানদণ্ড সামনে রেখে উদ্যোগ

বাংলাদেশের বিমানবন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ক্ষেত্রেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ICAO)-এর নিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আগামীতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা অডিট মোকাবিলা এবং বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখতে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।।

আকাশসীমা নজরদারির পর এবার ড্রোন প্রতিরোধ

বাংলাদেশের বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে আরও কিছু বড় পরিবর্তন এসেছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের আকাশসীমায় উড়োজাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি বিমানবন্দর এলাকায় ছোট ও অননুমোদিত উড়ন্ত বস্তু শনাক্ত ও প্রতিরোধে এন্টি-ড্রোন ব্যবস্থা যুক্ত হলে আকাশপথের নিরাপত্তা আরও সমন্বিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক বিমানবন্দর নিরাপত্তা এখন শুধু যাত্রী ও লাগেজ তল্লাশির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ড্রোন, সাইবার হুমকি, অননুমোদিত প্রবেশ, যানবাহন এবং অন্যান্য সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন।

এন্টি-ড্রোন প্রযুক্তি চালু হলে বিমানবন্দরের আকাশসীমায় অননুমোদিত ড্রোন শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে দ্রুত সতর্কতা পাওয়া এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে প্রযুক্তি স্থাপনের পাশাপাশি দক্ষ জনবল, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, সফটওয়্যার আপডেট এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে দ্রুত সমন্বয় নিশ্চিত করাও জরুরি।

সব মিলিয়ে, দেশের বিমানবন্দরগুলোতে এন্টি-ড্রোন প্রযুক্তি স্থাপনের উদ্যোগ বাংলাদেশের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি বাস্তবায়িত হলে উড়োজাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমান অবকাঠামোর সুরক্ষাও আরও শক্তিশালী হবে।

সম্পর্কিত খবর

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তুরস্কের আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

গাজামুখী ত্রাণবহরে ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দিবে ভারত: অমিত শাহ।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ৬ মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

হিন্দু উগ্রবাদী আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে। মোহন ভাগবতের সম্ভাব্য সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলের ‘ই-১’ বসতি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ৮ মুসলিম দেশের কঠোর অবস্থান

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ই-১ বসতি পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে ৮ মুসলিম দেশ। তারা ১,২০০ আবাসন ইউনিটের উদ্যোগ বাতিল ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।