খুলনার রামপাল উপজেলায় প্রস্তাবিত খান জাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্পে দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৩০ বছর ধরে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকা এই প্রকল্পে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি একটি চীনা প্রতিনিধি দল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে ভূমির অবস্থা, অবকাঠামোগত সুবিধা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্য বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেছে। যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিনিয়োগ বা নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি, সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী চীনা পক্ষ প্রকল্পটির কারিগরি ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা মূল্যায়নের কাজ করছে।
খান জাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্পের সূচনা হয় ১৯৯৬ সালে, যখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া খুলনা-মোংলা মহাসড়কের পাশে বাগেরহাট, খুলনা ও মোংলার সমদূরত্বে বিমানবন্দরটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৭৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হলেও অর্থায়নের সংকট, প্রশাসনিক জটিলতা এবং নীতিগত পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘ সময় বাস্তবায়ন থেকে পিছিয়ে যায়। বর্তমানে সরকারের উদ্যোগে প্রকল্পটি পুনরায় সক্রিয় করার প্রচেষ্টা চলছে এবং এই প্রেক্ষাপটে চীনা প্রতিনিধি দলের সফরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিমানবন্দরটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে মোংলা সমুদ্রবন্দর, রামপাল শিল্পাঞ্চল, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন খাত উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের পণ্য পরিবহন সুবিধা চালু হলে চিংড়ি, মাছ, কৃষিপণ্য, হিমায়িত খাদ্য এবং অন্যান্য রপ্তানিমুখী পণ্য দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হবে, যা এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প, বাণিজ্য, পর্যটন এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণে একটি আধুনিক বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশগত প্রভাব, অর্থনৈতিক কার্যকারিতা, যাত্রী চাহিদা, পরিচালন সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ব্যবস্থাপনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের সমীক্ষা সম্পন্ন করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, যথাযথ পরিকল্পনা, স্বচ্ছ বাস্তবায়ন এবং কার্যকর অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে এই বিমানবন্দর শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্পই হবে না, বরং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। তাই চীনা প্রতিনিধি দলের এই পরিদর্শনকে অনেকেই বহু বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা খান জাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন।
