আগামী ১৮ মাসের মধ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রস্তাবিত চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল (Chinese Economic and Industrial Zone - CEIZ)-এ প্রথম শিল্পকারখানা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী চীনা বিনিয়োগকারীদের এই সময়সীমার মধ্যে উৎপাদন শুরু করার চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন এবং চীনা উদ্যোক্তারাও তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে গড়ে ওঠা এই অর্থনৈতিক অঞ্চলকে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার আশা করছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশে শিল্পায়নের গতি বাড়বে, রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে এবং বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এর আগে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছে। প্রকল্পের আওতায় সড়ক, বহুমুখী জেটি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য শিল্প অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের একটি বড় অংশের অর্থায়ন করবে চীন।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, অর্থনৈতিক অঞ্চলটি চালু হলে অন্তত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) আকৃষ্ট হবে এবং এক লাখের বেশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। ভৌগোলিকভাবে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কর্ণফুলী টানেলের নিকটবর্তী হওয়ায় অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লজিস্টিকসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকা এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতি আসবে। একই সঙ্গে এটি দেশের উৎপাদনশীল খাত, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), একনেক, বাসস ।
