ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী ‘সিনো-বাংলা ডে ২০২৬’ চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি চীনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৪৩০টি চাকরির সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে মেলাটি আয়োজন করা হয়। এর বাস্তবায়নে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট। ফলে এটি শুধু একটি চাকরি মেলা নয়, বরং বাংলাদেশি তরুণদের সঙ্গে চীনা ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সরাসরি যোগাযোগ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মেলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চাকরিপ্রার্থীরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আগ্রহীরা চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে সরাসরি এবং অনলাইনে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে পারছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন পদের দায়িত্ব, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, কাজের ধরন, দক্ষতা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে সরাসরি তথ্য জানার সুযোগ রয়েছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের তরুণদের জন্য চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীরা এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ, পেশাগত উন্নতির সম্ভাবনা এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা নিতে পারবেন। এর ফলে শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরির জন্য আবেদন করার সুযোগই পাচ্ছেন না, বরং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতি সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ ধারণা অর্জন করছেন।
বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাড়ার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সরাসরি নিয়োগ উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণদের কর্মসংযোগ তৈরি হলে একদিকে স্থানীয় শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন চাকরির ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানগুলোও স্থানীয় দক্ষ জনশক্তি সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়ার সুযোগ পাবে।
‘সিনো-বাংলা ডে ২০২৬’ একই সঙ্গে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও মানবসম্পদ সহযোগিতার একটি নতুন ক্ষেত্র তুলে ধরছে। প্রায় ৪৩০টি চাকরির সুযোগ নিয়ে ৩০ থেকে ৪০টি চীনা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক পরিসরে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে। পাশাপাশি এমন আয়োজন নিয়মিত হলে চীনা ব্যবসা ও বাংলাদেশের শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
