জাতীয়Aug 16, 20264 min read

আদালতের বিবেচনার নতুন উসিলায় হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ পিছিয়ে দিতে চাচ্ছে দিল্লি।

স্টাফ রিপোর্টাররিপোর্টার|জাতীয়

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধ আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করছে ভারত। নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় বাংলাদেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শেয়ার করুন:
আদালতের বিবেচনার নতুন উসিলায় হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ পিছিয়ে দিতে চাচ্ছে দিল্লি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিয়ে নতুন করে আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে সামনে আনছে ভারত। বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ ইতোমধ্যে দিল্লির হাতে রয়েছে। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবার জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের আইনি ও বিচারিক কাঠামোর আলোকে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এতে হাসিনাকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ১৭ জুলাই জানান, বাংলাদেশ শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠিয়েছে এবং সেটি বর্তমানে আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আলোকে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা সিদ্ধান্তের তারিখ জানাননি। এর আগেও এপ্রিল মাসে দিল্লি একই অবস্থান জানিয়ে বলেছিল, বাংলাদেশের অনুরোধ সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালে প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং একই বছরের ২৩ অক্টোবর তা কার্যকর হয়। এই চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে প্রত্যর্পণযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে হস্তান্তরের বিষয়ে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। তবে চুক্তিতে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যানের কিছু বিধানও রয়েছে। রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যানের সুযোগ থাকলেও হত্যা, গুরুতর শারীরিক আঘাত, অপহরণ ও সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট কিছু অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করার বিধান রয়েছে।

এখন হাসিনার ক্ষেত্রে দিল্লির সামনে মূল প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের পাঠানো অভিযোগ ও আদালতের রায় প্রত্যর্পণ চুক্তির কোন বিধানের আওতায় পড়ে এবং প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যানের কোনো শর্ত এখানে প্রযোজ্য কি না। ন্যায়বিচারের স্বার্থে অভিযোগ করা হয়নি, অথবা প্রত্যর্পণ অন্যায্য কিংবা নিপীড়নমূলক হবে—এমন পরিস্থিতিতেও নির্দিষ্ট শর্তে প্রত্যর্পণ না করার সুযোগ চুক্তিতে রাখা হয়েছে। ফলে বিষয়টি কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আইনি ব্যাখ্যার সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়েছে।

১৫ জুলাই জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং বিষয়টি আইনি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে। দিল্লির এই অবস্থান বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। কারণ ঢাকার কাছে এটি শুধু একটি প্রত্যর্পণ আবেদন নয়; বরং একজন সাবেক সরকারপ্রধানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বিষয়।

হাসিনার প্রত্যর্পণ ইতোমধ্যে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ১৬ আগস্ট প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন এবং হাসিনার অবস্থান দুই দেশের টানাপোড়েনের অন্যতম কারণ। একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সম্পর্ক উন্নয়নে অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

সব মিলিয়ে দিল্লি এখন সরাসরি সিদ্ধান্ত জানানোর পরিবর্তে আইনি ও বিচারিক পর্যালোচনাকে সামনে রাখছে। ফলে হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার সময়সীমা অনিশ্চিতই থাকছে। ঢাকার জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রত্যর্পণ চুক্তির বিধান সামনে রেখে দ্রুত ও স্পষ্ট সিদ্ধান্তের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা।

সম্পর্কিত খবর

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তুরস্কের আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

গাজামুখী ত্রাণবহরে ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দিবে ভারত: অমিত শাহ।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ৬ মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

হিন্দু উগ্রবাদী আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে। মোহন ভাগবতের সম্ভাব্য সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলের ‘ই-১’ বসতি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ৮ মুসলিম দেশের কঠোর অবস্থান

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ই-১ বসতি পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে ৮ মুসলিম দেশ। তারা ১,২০০ আবাসন ইউনিটের উদ্যোগ বাতিল ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।