ইরানের জব্দ থাকা বৈদেশিক তহবিলের একটি অংশ অবমুক্ত হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কাতারে সংরক্ষিত ইরানের মোট ১ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার সমমূল্যের তহবিলের মধ্যে প্রথম ধাপে ৬০০ কোটি ডলার অবমুক্ত করা হয়েছে এবং সেই অর্থ তেহরানে স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপকে শুধু আর্থিক স্বস্তি নয়, বরং সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সমঝোতা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থ স্থানান্তর একটি পূর্বনির্ধারিত বাস্তবায়ন কর্মসূচির অংশ এবং অবশিষ্ট ৬০০ কোটি ডলার দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও কাজ চলছে। এর আগে ২৩ জুন ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি জানিয়েছিলেন, প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ থাকা ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং দুই দেশের সম্পর্কের নতুন গতিপথ নিয়ে বিশ্লেষণ শুরু হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দূরবর্তী পদ্ধতিতে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে, যার উদ্দেশ্য ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটানো এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা। এই সমঝোতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে। অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরায় নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এছাড়া সমঝোতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইরানের প্রতিশ্রুতি যে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে অগ্রসর হবে না। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ সমাধান এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং এ বিষয়ে একটি পৃথক চুক্তির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উভয় পক্ষ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তহবিল অবমুক্ত হওয়া ইরানের অর্থনীতিতে স্বল্পমেয়াদে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আলোচনায়ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণে নতুন পরিবর্তনের সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে।
