দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর এই প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে জাপান। দেশটির সরকার 'ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (National Intelligence Bureau-NIB)' নামে নতুন এই সংস্থা গঠনের মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও সমন্বয়ের কাঠামোয় বড় ধরনের সংস্কার আনছে।
জাপান সরকার জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের আরও কার্যকর সমন্বয়, বিদেশি গুপ্তচরবৃত্তি প্রতিরোধ, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার এবং জাতীয় নিরাপত্তার ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা গঠন করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই জাপানের গোয়েন্দা কাঠামো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, পুলিশ, সামরিক বাহিনী এবং নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে বিভক্ত ছিল। ফলে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দুর্বলতা তৈরি হচ্ছে বলে দেশটির নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বহু বছর ধরে সতর্ক করে আসছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (NIB) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাপান প্রথমবারের মতো একটি সমন্বিত জাতীয় গোয়েন্দা কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে। এটি ভবিষ্যতে বিদেশি গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা, পাল্টা গোয়েন্দা (Counterintelligence) সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় পর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে পারে।
এছাড়া এই সংস্কারের ফলে জাপানে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত একটি গুপ্তচরবিরোধী (Counter-Espionage) আইন প্রণয়নের পথও সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ (CIA) বা যুক্তরাজ্যের এমআই৬ (MI6)-এর আদলে বিদেশে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে সক্ষম একটি শক্তিশালী বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা গঠনের ভিত্তিও তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সামরিক সম্প্রসারণ, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, রাশিয়ার নিরাপত্তা তৎপরতা এবং সাইবার হামলার ঝুঁকি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জাপান ধারাবাহিকভাবে তার জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করছে। নতুন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা গঠনকে সেই বৃহত্তর নিরাপত্তা সংস্কারেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শান্তিবাদী সংবিধানের কারণে জাপানের সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামো দীর্ঘদিন তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। তবে বর্তমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টোকিও ধীরে ধীরে প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা ও জাতীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে।
সূত্র: CNN
