স্বাস্থ্যMar 26, 20263 min read

বজ্রপাতের আঘাতে মানুষের শরীরে যেসব ক্ষতি হয়

ফ্যাক্ট লেন্স ডেস্ক|স্বাস্থ্য

প্রবল বজ্রপাতের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বহু মানুষ আহত ও নিহত হয়েছেন। সচেতনতা ও নিরাপদ আশ্রয় নেওয়া জরুরি, বিশেষ করে খোলা মাঠ ও জলাশয়ের ক্ষেত্রে।

শেয়ার করুন:
বজ্রপাতের আঘাতে মানুষের শরীরে যেসব ক্ষতি হয়

বজ্রপাত প্রকৃতির এক প্রচণ্ড শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক ঘটনা, যা শুধু আকাশ থেকে আলোর ঝলকানি বা শব্দের মাধ্যমে নয়, বরং মানুষের শরীর ও মানসিক অবস্থার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় দুই লাখ চল্লিশ হাজার মানুষ বজ্রপাতের শিকার হন, যার প্রায় দশ শতাংশ মারা যান। যারা বেঁচে থাকেন, তাদের জীবনও প্রায়শই আগের মতো থাকে না। বজ্রপাতের আঘাতের সময় কয়েক মিলিয়ন ভোল্টের বিদ্যুৎ শরীরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, যা হৃদপিণ্ডের ছন্দকে বিঘ্নিত করে তাৎক্ষণিক হৃদরোগ বা ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ ঘটাতে পারে। এছাড়া চামড়া ও পেশিতে মারাত্মক পোড়া সৃষ্টি হয়, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘লিচেনবার্গ ফিগার’ বলা হয়। বিদ্যুতের প্রবাহ স্নায়ুতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে দীর্ঘমেয়াদী পক্ষাঘাত, স্মৃতিশক্তি হ্রাস বা মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে। তীব্র শব্দ এবং আলোর ঝলকানি মানুষের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তিও প্রভাবিত করে, অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী অন্ধত্ব বা শ্রবণক্ষমতার ক্ষতি দেখা যায়।

আমেরিকার নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা গ্যারি রেনল্ডস একজন কাঠমিস্ত্রি, যিনি চারবার বজ্রপাতের শিকার হয়েছেন। প্রথমবার ২০০৭ সালে নিজের গ্যারেজে থাকা ফ্রিজ থেকে পানীয় বের করার সময় বজ্রপাতের শিকার হন। তিনি জানান, আঘাতের পর মাস ধরে শারীরিক যন্ত্রণায় বিছানা থেকে উঠতে পারেননি। শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিক পরিবর্তনও অগ্রাহ্যযোগ্য নয়; বাইরের দৃষ্টিতে তিনি আগের মতোই থাকলেও ভেতরের মানুষ সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। অন্য এক ব্যক্তি ম্যাট জানিয়েছেন, বজ্রপাতের কারণে তাঁর স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি আর ব্যথা বা তাপমাত্রা অনুভব করতে পারেন না। আবার ক্যারোলিন নামের এক নারী বলেছেন, বজ্রপাতের পর তিনি আর ঘামতে পারেন না এবং প্রতিটি কাজের জন্য তথ্য লিখে রাখতে হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৬ সাল থেকে বজ্রপাতে অন্তত ৪৪৪ জন মারা গেছেন, বিশেষ করে ফ্লোরিডার মতো আর্দ্র অঞ্চলে বজ্রপাতের ঘটনা বেশি ঘটে। এই ঝুঁকি কমানোর জন্য লাইটেনিং স্ট্রাইক অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল শক সারভাইভারস ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, যা বজ্রপাতের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা করে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বজ্রপাতের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় খোলা মাঠে, জলাশয় বা পাহাড়ি অঞ্চলে থাকা বিশেষভাবে বিপজ্জনক। জীবন রক্ষার প্রধান উপায় হল দ্রুত পাকা দালানের নিচে আশ্রয় নেওয়া এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে দূরে থাকা। সচেতনতা, প্রস্তুতি এবং সঠিক তথ্যই বজ্রপাতের প্রভাব থেকে বাঁচতে পারে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু বা স্থায়ী ক্ষতি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

সম্পর্কিত খবর

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তুরস্কের আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

গাজামুখী ত্রাণবহরে ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দিবে ভারত: অমিত শাহ।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ৬ মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

হিন্দু উগ্রবাদী আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে। মোহন ভাগবতের সম্ভাব্য সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলের ‘ই-১’ বসতি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ৮ মুসলিম দেশের কঠোর অবস্থান

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ই-১ বসতি পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে ৮ মুসলিম দেশ। তারা ১,২০০ আবাসন ইউনিটের উদ্যোগ বাতিল ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।