স্থানীয়Apr 20, 20263 min read

মানবিকতার চূড়ান্ত পতন—মাদকের টাকায় না পেয়ে মায়ের ওপর আগুন, আটক ছেলে!

স্টাফ রিপোর্টাররিপোর্টার|স্থানীয়

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে মাদকাসক্ত ছেলের নেশার টাকা না পেয়ে মাকে ঘরে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা। স্থানীয়রা উদ্ধার করে পুলিশে দেয় ও অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হয়।

শেয়ার করুন:
মানবিকতার চূড়ান্ত পতন—মাদকের টাকায় না পেয়ে মায়ের ওপর আগুন, আটক ছেলে!

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের মধ্যপাড়ায় মাদকের টাকার জন্য মাকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করার মতো হৃদয়বিদারক ও ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে, যেখানে জাকিরুল ইসলাম (৩৫) নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিনের মাদকাসক্তির কারণে নিজের বৃদ্ধা মা জোবেদা বেগমের ওপর চরম সহিংস আচরণ করে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে সে মায়ের কাছে নেশার টাকা দাবি করলে মা অপারগতা প্রকাশ করেন, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সে ঘরের ভেতরে মাকে আটকে রেখে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে বৃদ্ধাকে উদ্ধার করেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন, পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত জাকিরুলকে আটক করে এবং পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

স্থানীয়রা জানান, সে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিল এবং প্রায়ই নেশার টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। এই ঘটনা কেবল একটি অপরাধ নয় বরং আমাদের সমাজে মাদকের ভয়াবহ প্রভাব ও পারিবারিক নিরাপত্তার চরম ভাঙনের প্রতিচ্ছবি। মাদক মানুষের বিবেক, মানবিকতা ও পারিবারিক বন্ধন ধ্বংস করে দিয়ে তাকে সহিংস ও অমানবিক আচরণের দিকে ঠেলে দেয়, যার ফল ভোগ করতে হয় পরিবার ও সমাজকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সহজলভ্য মাদক, সচেতনতার অভাব এবং পারিবারিক পর্যায়ে নজরদারির ঘাটতি তরুণদের বিপথগামী করে তুলছে।

এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকবিরোধী আন্দোলন জোরদার করা জরুরি। মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা এবং পরিবারভিত্তিক সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা না গেলে এমন বর্বরতা সমাজে আরও বাড়তে পারে। একজন সন্তান যখন নিজের মায়ের নিরাপদ আশ্রয়কে আগুনের মৃত্যুপুরীতে পরিণত করে, তখন তা পুরো মানবিক মূল্যবোধের জন্য অশনিসংকেত। সমাজের প্রতিটি স্তরে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ ছাড়া এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ তরুণদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সম্পর্কিত খবর

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তুরস্কের আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

গাজামুখী ত্রাণবহরে ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দিবে ভারত: অমিত শাহ।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ৬ মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

হিন্দু উগ্রবাদী আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে। মোহন ভাগবতের সম্ভাব্য সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলের ‘ই-১’ বসতি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ৮ মুসলিম দেশের কঠোর অবস্থান

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ই-১ বসতি পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে ৮ মুসলিম দেশ। তারা ১,২০০ আবাসন ইউনিটের উদ্যোগ বাতিল ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।