বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। একই সঙ্গে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে মির্জা ফখরুলকে সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। ২০ আগস্ট বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল নির্বাচিত হওয়ার পর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই অভিনন্দনবার্তা দেওয়া হয়। পাকিস্তান হাইকমিশন, ঢাকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বার্তার বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাও বিষয়টি জানিয়েছে। অভিনন্দনবার্তায় জারদারি আশা প্রকাশ করেন, মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও অগ্রগতি অর্জন করবে এবং জনগণের কল্যাণে এগিয়ে যাবে। তিনি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ককে অভিন্ন ইতিহাস, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যে ইতিবাচক গতি তৈরি হয়েছে, তা আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন। বাণিজ্য, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জারদারি বলেন, তিনি মির্জা ফখরুলের সঙ্গে কাজ করে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে আগ্রহী। তাঁর মতে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পাকিস্তান সফর হলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় বিরোধী জোটের প্রার্থী কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।
মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৪৩টি ভোট পড়েছিল। একই দিন নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে মির্জা ফখরুলকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করে। পরে ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। মির্জা ফখরুলকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বাংলাদেশ সফর করে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি সার্ক পুনরুজ্জীবনের বিষয়ও উঠে আসে। ফলে জারদারির অভিনন্দন ও সফরের আমন্ত্রণকে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সক্রিয় করার পাকিস্তানি আগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পাকিস্তান সফরের তারিখ ও আলোচ্যসূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি।
