আন্তর্জাতিকJun 28, 20265 min read

আঙ্কারা সম্মেলনে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্রচুক্তি ও ইউক্রেনকে নতুন সামরিক সহায়তার ঘোষণা দিতে পারে ন্যাটো

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে নতুন অস্ত্রচুক্তি ও ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তার ঘোষণা আসতে পারে। এতে জোটের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কৌশল গুরুত্ব পাচ্ছে।

শেয়ার করুন:
আঙ্কারা সম্মেলনে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্রচুক্তি ও ইউক্রেনকে নতুন সামরিক সহায়তার ঘোষণা দিতে পারে ন্যাটো

আগামী ৭–৮ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নতুন প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা, বৃহৎ আকারের অস্ত্রচুক্তি এবং ইউক্রেনকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সহায়তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। ন্যাটোর একাধিক কূটনীতিকের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের নতুন অস্ত্রচুক্তি ঘোষণা এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি আসতে পারে। যদিও এসব চুক্তির মোট আর্থিক পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে এর একটি অংশ আগেই সমঝোতা হওয়া উদ্যোগকে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপনের সম্ভাবনাও রয়েছে। সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ অনুযায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হতে পারে এবং রাশিয়াকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হতে পারে।

এই সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ জোটের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন। এমন সময়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয়, আঞ্চলিক দায়িত্ব এবং আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলা নিয়ে মতপার্থক্য দৃশ্যমান। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এবারের আলোচনায় বিশেষভাবে প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, যাতে জোটের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের পরিবর্তে একটি অভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্য সামনে আনা যায়। এর অংশ হিসেবে ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে সীমিত উচ্চমূল্যের অস্ত্র উৎপাদন থেকে দ্রুত বৃহৎ পরিসরের উৎপাদন ব্যবস্থায় রূপান্তরের বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে।

খসড়া ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, ইউক্রেনকে ৭০ বিলিয়ন ইউরো সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এবং আগামী বছরও অন্তত একই পরিমাণ সহায়তা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে না। একই সঙ্গে ২০৩৫ সালের মধ্যে জিডিপির ৩.৫ শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয়ের লক্ষ্যে একমত হওয়ার পর ইউরোপীয় মিত্র ও কানাডা গত বছরের তুলনায় অতিরিক্ত ১৩৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে বলে জানানো হয়েছে। আলোচনায় ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, দূরপাল্লার আঘাত হানার ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং চালকবিহীন যুদ্ধযানে বিনিয়োগের বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে।

এদিকে ইরান ইস্যুতেও উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চলছে। খসড়া ঘোষণায় হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান এবং ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে— সেই অবস্থানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই সম্মেলনকে শুধু সামরিক নয়, বরং ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামো, প্রতিরক্ষা অর্থনীতি এবং ট্রান্সআটলান্টিক দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সম্পর্কিত খবর

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তুরস্কের আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

গাজামুখী ত্রাণবহরে ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দিবে ভারত: অমিত শাহ।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ৬ মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

হিন্দু উগ্রবাদী আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে। মোহন ভাগবতের সম্ভাব্য সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলের ‘ই-১’ বসতি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ৮ মুসলিম দেশের কঠোর অবস্থান

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ই-১ বসতি পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে ৮ মুসলিম দেশ। তারা ১,২০০ আবাসন ইউনিটের উদ্যোগ বাতিল ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।