১৪ আগস্ট ২০২৬ পাকিস্তানের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে। পাকিস্তানের সরকারি বার্তা সংস্থা এপিপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, হাইকমিশনার-মনোনীত ইমরান হায়দার জাতীয় সংগীতের সুরের সঙ্গে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বসবাসরত পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয় এবং দেশটির প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। হাইকমিশনার-মনোনীত ইমরান হায়দার বাংলাদেশে বসবাসরত পাকিস্তানি নাগরিকদের স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান। তিনি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তানের পূর্বসূরিদের সংগ্রামের কথাও স্মরণ করেন।
পাকিস্তান ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে। এরপর থেকে প্রতিবছর দেশটির স্বাধীনতা দিবস ১৪ আগস্ট পালিত হয়ে আসছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সরকারি ও সামাজিক কর্মসূচির পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত পাকিস্তানি কূটনৈতিক মিশনগুলোতেও দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করা হয়। এসব আয়োজনে সাধারণত জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ এবং প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশনেও স্বাধীনতা দিবস পালনের দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতা রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৪ আগস্টও একই ধরনের অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার-মনোনীত ইমরান হায়দার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। পাকিস্তানের সরকারি প্রেস তথ্য বিভাগ ওই অনুষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছিল। ফলে এবারের আয়োজনকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নিয়মিত আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিক অংশ হিসেবে দেখা যায়।
ঢাকায় পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে নানা জটিলতা থাকলেও সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
হাইকমিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মতো আনুষ্ঠানিক আয়োজন সাধারণত কোনো দেশের জাতীয় দিবস পালনের স্বাভাবিক কূটনৈতিক রীতির অংশ। একই সঙ্গে এ ধরনের অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি, প্রবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ধারাবাহিকতাও তুলে ধরে। ঢাকায় পাকিস্তানের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবসের আয়োজন তাই একদিকে পাকিস্তানের জাতীয় ইতিহাস ও স্বাধীনতার স্মরণ, অন্যদিকে বাংলাদেশে দেশটির কূটনৈতিক কার্যক্রমের নিয়মিত প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
