আন্তর্জাতিকAug 10, 20265 min read

পূর্ব ইউক্রেনে দুই গ্রাম দখলের দাবি রাশিয়ার, সম্মুখযুদ্ধে তীব্র লড়াইয়ের কথা জানাল কিয়েভ

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

রাশিয়া দোনেৎস্কে ভাসিউতিনস্কে ও তোরেৎস্ক নিয়ন্ত্রণের দাবি করেছে। ইউক্রেন তা নিশ্চিত করেনি; ক্রামাতোরস্ক-কস্তিয়ান্তিনিভিকা অঞ্চলে লড়াই অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।

শেয়ার করুন:
পূর্ব ইউক্রেনে দুই গ্রাম দখলের দাবি রাশিয়ার, সম্মুখযুদ্ধে তীব্র লড়াইয়ের কথা জানাল কিয়েভ

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে রাশিয়া। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, রুশ বাহিনী ভাসিউতিনস্কে ও তোরেৎস্ক এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তবে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ এই দাবি নিশ্চিত করেনি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করাও সম্ভব হয়নি। ফলে ঘটনাটিকে আপাতত রাশিয়ার সামরিক দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, ভাসিউতিনস্কে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ক্রামাতোরস্ক শহরের কয়েক কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। অন্যদিকে তোরেৎস্ক দ্রুজকিভকার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। এই ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে রাশিয়ার দাবি সত্য হলে পূর্ব দোনেৎস্কে ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা অবস্থানের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ক্রামাতোরস্কের আশপাশের অঞ্চল বর্তমানে যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অক্ষ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ক্রামাতোরস্ক দোনেৎস্ক অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউক্রেনীয় সামরিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। শহরটির অবস্থান পূর্বাঞ্চলের প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এর আশপাশে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি ইউক্রেনের জন্য কৌশলগত চাপ তৈরি করতে পারে। একইভাবে কস্তিয়ান্তিনিভিকা ও দোব্রোপিলিয়া এলাকাও সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র লড়াইয়ের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রোববার রাতে দেওয়া ভিডিও ভাষণে ভাসিউতিনস্কে বা তোরেৎস্কের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেননি। তবে তিনি দোব্রোপিলিয়া, কস্তিয়ান্তিনিভিকা ও ক্রামাতোরস্ক এলাকায় অবস্থানরত ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রশংসা করেছেন। এতে অন্তত এটুকু স্পষ্ট যে ওই বিস্তৃত অঞ্চলে সামরিক সংঘর্ষ এখনও সক্রিয় এবং ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে রুশ কমান্ডাররা কস্তিয়ান্তিনিভিকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবিও করেছিলেন। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা তখন সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ফলে চলমান যুদ্ধে কোনো শহর, গ্রাম বা সামরিক অবস্থানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাশিয়া কিংবা ইউক্রেনের দাবি যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঝুঁকিপূর্ণ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ক্রামাতোরস্ক–কস্তিয়ান্তিনিভিকা–দোব্রোপিলিয়া অক্ষ। রাশিয়া যদি এই অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে অগ্রসর হতে পারে, তাহলে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়তে পারে। বিপরীতে ইউক্রেনীয় বাহিনী যদি গুরুত্বপূর্ণ শহর ও যোগাযোগপথ ধরে রাখতে সক্ষম হয়, তাহলে রুশ অগ্রযাত্রা ধীর করার সুযোগ থাকবে। তাই সাম্প্রতিক দখলের দাবির চেয়ে আগামী কয়েক দিনে ওই অঞ্চলের বাস্তব নিয়ন্ত্রণ ও সামরিক গতিপথই পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করবে।

সম্পর্কিত খবর

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তুরস্কের আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

গাজামুখী ত্রাণবহরে ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দিবে ভারত: অমিত শাহ।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ৬ মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

হিন্দু উগ্রবাদী আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন আরএসএস নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে। মোহন ভাগবতের সম্ভাব্য সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলের ‘ই-১’ বসতি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ৮ মুসলিম দেশের কঠোর অবস্থান

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ই-১ বসতি পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে ৮ মুসলিম দেশ। তারা ১,২০০ আবাসন ইউনিটের উদ্যোগ বাতিল ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।